এনেসথেসিয়া কী

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৬ এএম

এনেসথেসিয়া একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে কোনো ব্যক্তি অপারেশনের সময় যন্ত্রণা এড়াতে পারে। এনেসথেসিয়ায় বিভিন্ন রকমের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যাকে এনেসথেটিক ড্রাগ বলা হয়। এ ওষুধ সাধারণত তিন প্রকারের লোকাল বা স্থানীয়, রিজিওনাল বা আঞ্চলিক এবং জেনারেল বা সাধারণ এনেসথেসিয়া। স্থানীয় ও আঞ্চলিক এনেসথেসিকস বা অনুভূতিনাশক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যা শরীরের বিশেষ একটি অংশ অবশ করে। রোগী অপারেশন চলাকালে জেগে থাকেন। আর জেনারেল বা সাধারণ এনেসথেসিয়া রোগীকে অপারেশন চলাকালে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়।

কেন প্রয়োজন : এনেসথেসিয়া কোনো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে। ব্যথার ধরনের ওপর নির্ভর করে বা কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে এনেসথেসিয়ার ব্যবহার পরিবর্তন হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : জেনারেল

এনেসথেসিয়ার বেশিভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অস্ত্রোপচারের পরপরই ঘটে অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অপারেশন শেষ হওয়ার পর এবং চেতনানাশক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রোগী ধীরে ধীরে অপারেটিং রুমে জেগে ওঠেন। এ সময় রোগী বমি ভাব এবং বমি করতে পারে। রোগী যখন জেগে উঠবে তখন মুখ শুষ্কবোধ করে। রোগী যখন প্রথম এনেসথেসিয়া থেকে জেগে উঠবেন তখন বিভ্রান্ত, তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধ করতে পারেন। এটি সাধারণত কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তবে কিছু বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। পেশি ব্যথা হতে পারে। রোগী চুলকানি অনুভব করতে পারেন। জেনারেল এনেসথেসিয়ার পর অল্প সময়ের জন্য প্রস্রাব করতে অসুবিধা হয় কারও কারও। এনেসথেসিয়া প্রয়োগের কাজটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়। এনেসথেটিক ড্রাগস সিলেকশন এবং ডোজ, রোগীর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হয়। না হলে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এনেসথেসিয়ার আগে নিদ্রাহীনতা, খিঁচুনি, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, কিডনির রোগ, ড্রাগ অ্যালার্জি এসব রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানাতে হবে। যদি ধূমপান ও প্রচুর পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, এমনকি রক্ত পাতলা ওষুধ গ্রহণ করলেও চিকিৎসককে জানাবেন। পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্যের অবস্থা, ওষুধের ব্যবহার, বিনোদনমূলক ড্রাগ ব্যবহার করেন কি না এসব নিয়েও। কী খেতে পারেন কিংবা পান করতে পারেন না এবং কী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত বা কী করা উচিত নয়, পূর্ব ধারণার নির্দেশাবলি অনুসরণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত