স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকলে তা একদিন পূর্ণ হবেই: ডি মারিয়া

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম

বিশ্বকাপ জয়ী আনহেল ডি মারিয়া মজা করে প্রায়ই কোচ লিওনেল স্কালোনিকে আর্জেন্টিনা দলে ফেরার কথা মজা করে বলেন। বয়স প্রায় ৩৭ বছর হলেও তার খেলার দক্ষতা এখনো অটুট। বেনফিকার ভক্তরা তার খেলা উপভোগ করছে। দলে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভূমিকা রেখে, শেষবারে জাতীয় দল থেকে বিদায় নেন তিনি।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আর্জেন্টিনার সংবাদ মাধ্যম ওলে একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এখানে ঈষৎ সংক্ষেপিত সেই কথোপকথন প্রকাশ করা হলো। 

১৮ ডিসেম্বর, ২০২২ সালের কথা মনে করলে, প্রথমে কোন দৃশ্য বা অনুভূতি মনে পড়ে?
ডি মারিয়া: সত্যি বলতে, প্রথম যে দৃশ্যটা মনে পড়ে, সেটা হলো ট্রফি পাওয়ার পর বিশ্বকাপে চুমু খাওয়ার মুহূর্তটা। বহু ফুটবলারের কাছে এটি ছিল স্বপ্ন, এবং অবশেষে আমাদের সময় এসেছে। আমি অনুভব করেছিলাম, আজ আমার পালা। আমরা কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জিতেছিলাম, কিন্তু বিশ্বকাপ জয় অন্যরকম এক স্বপ্ন।

২০২১-এর কোপা আমেরিকা জয়ে মারাকানায় খুশির বাঁধ ভেঙেছিল। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া আপনার জন্য কী অর্থ বহন করে?
ডি মারিয়া: হ্যাঁ, মারাকানায় সেটা সম্ভব হয়েছিল। তবে শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্য। দীর্ঘ সময়ের ব্যর্থতার বোঝা আমরা সরাতে পেরেছিলাম। বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টিনার জন্য যা নিয়ে এসেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটা আমাদের জীবনের সেরা মুহূর্ত এবং পুরো দেশের জন্য দারুণ আনন্দের কারণ।

কেন আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছিল?
ডি মারিয়া: কারণ দল ভালো খেলছিল। (কোপা আমেরিকা জেতার পর) আমরা ইতালির বিপক্ষে ফিনালিসিমা জিতে দেখিয়েছিলাম, শুধু দক্ষিণ আমেরিকার নয়, ইউরোপের সেরা দলগুলোকেও হারানোর সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। বিশ্বকাপে শুরুটা কঠিন ছিল, কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর থেকে আমরা আমাদের সেরা রূপে ফিরেছিলাম।

জাতীয় দলে এত বছর কষ্ট সহ্য করেছেন। মেসির মতো কি আপনার জন্যও গল্পের মতো শেষ প্রস্তুত ছিল?
ডি মারিয়া: হ্যাঁ, অনেক কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। মারাকানার কোপা আমেরিকা ছিল আমার শেষ সুযোগ। তবে এখন মনে হয়, সবকিছু এমনভাবেই ঘটতে চেয়েছিল, যেন আমার ক্যারিয়ার এমন এক সুন্দর সমাপ্তি পায়।

আপনার বাসায় বিশ্বকাপ থেকে কী রাখা আছে?
ডি মারিয়া: শুধু বিশ্বকাপ ট্রফিটা। প্রতিদিন এটা দেখি। এটা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।

বিশ্বকাপের জার্সিগুলো কী করেছেন?
ডি মারিয়া: ফাইনালের একটি জার্সি রেখেছি নিজের জন্য, আরেকটি দিয়েছি বাবাকে। বাবার স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়া, যা তিনি পূরণ করতে পারেননি। তাই আমার সাফল্যে তার অংশগ্রহণ আমাকে গর্বিত করে।

আপনি বেঞ্চে বসে কাঁদছিলেন যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এখন সেই মুহূর্ত নিয়ে কী মনে হয়?
ডি মারিয়া: এখন আর কিছু মনে হয় না। তবে তখন বিশ্বাস করতাম, এটা আমাদের হাতছাড়া হতে পারে না। আমরা চমৎকার একটি ম্যাচ খেলছিলাম।

কাতার বিশ্বকাপ থেকে কী শেখা হলো?

ডি মারিয়া: ধৈর্য ধরে লড়াই করে যাওয়ার মূল্য আছে। স্বপ্ন সত্যি হয়, যদি আপনি চেষ্টা চালিয়ে যান।

জাতীয় দলের হয়ে আর কিছু করার বাকি ছিল কি?
ডি মারিয়া: আমি চাইতাম একবার অন্তত গোলকিপিং করতে। এটা হলে পুরোপুরি সম্পূর্ণ মনে হতো।

জাতীয় দলে আপনার রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?
ডি মারিয়া: হাল ছেড়োআ। পরিবার সবসময় পাশে থাকে, তা খারাপ সময় হোক বা ভালো। স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকলে, তা একদিন পূর্ণ হবেই।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত