আমার জীবন হুমকির মুখে, আমি বাঁচতে চাই— কারাগার থেকে ফিরে ব্যবসায়ী

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:১০ পিএম

গত ৫ আগস্ট রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে চালানো হয় লুটপাট। এরপর জ্বালিয়ে দেয়া হয় আসবাসপত্র। এরপর রাজনৈতিক নেতার পিএস পরিচয়ে দাবি করা হয় ১৫লাখ টাকা চাঁদা। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে অপহরণ করে নিয়ে চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। নেয়া হয় খালি স্ট্যাম্পে সই। এরপর মিথ্যা মামলায় আসামি বানিয়ে তুলে দেয়া হয় পুলিশের হাতে। তিন মাস কারাবাস থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেও পাচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম। 
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে এ আর্তি জানিয়েছেন তিনি। 

নগরীর একটি রেস্তোঁরায় বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম এই চাঁদাবাজি, মারধর, মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ এনেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমিরের শাজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব মো. আরমান উদ্দিনের বিরূদ্ধে। 

তবে, অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরূদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তার কোনো তথ্য প্রমাণ থাকলে সামনে আনুক। প্রকৃতপক্ষে অভিযোগকারী খোরশেদ শ্রমিক লীগের একজন নেতা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মহানগর জামায়াতের আমিরকে বিতর্কিত করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে আমি মনে করি। 

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় শাহ মজিদিয়া মার্কেটে মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্স ও রাইয়ান এন্টারপ্রাইজ নামে তার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাত ৮টার দিকে জনৈক মো. হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক গিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৬ লাখ নগদ টাকাসহ মালামাল লুট করে এবং আসবাবপত্র জ্বালিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মহানগর জামায়াতের আমিরের পিএস আরমান উদ্দিন তাকে ডেকে নিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।  চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া ও মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর দাবিকৃত চাঁদার জন্য নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন ওই পিএস ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে ৮ লাখ টাকায় তাদের মধ্যে বোঝাপড়া হয় এবং নগদ ৩ লাখ ও ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেয় খোরশেদ। গত ২৮ আগস্ট আরমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটের ঘটনা মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে তাকে স্থানীয় ঠাকুরদীঘি পেট্রোল পাম্পে ডেকে নিয়ে যান। সেখান পৌঁছার পর আদিল, আবদুর রহমান, রিদোয়ানুল হক ও আবদুল জলিল নামে আরো কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ওই মাইক্রোবাসে করে তাঁকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি ভবনের চার তলায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে আরমান অবস্থান করছিলেন। সেখানে আরমান তাকে পাঁচ লাখ টাকার ক্যাশ না হওয়ার অভিযোগে মারধর করেন এবং আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। অন্যথায় বস্তায় ভরে কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেন। পরে সেখানে তার কাছ থেকে ৯টি খালি স্টাম্পে জোর করে সই নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে চোখ বেঁধে নামিয়ে মাইক্রোবাসে করে চাঁন্দগাও থানায় নিয়ে গিয়ে লোহাগাড়া থানার একটি মিথ্যা মামলার আসামি বানিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ২৯ আগস্ট পুলিশ তাকে আদালতে চালান দিলে সেখান থেকে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন, তিন মাস দশ দিন কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে আসার পর আরমান তাকে আবারও মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। প্রাণভয়ে তিনি বাড়িতেও যেতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমার জীবন হুমকির মুখে। আমি বাঁচতে চাই। আমি নিরাপদে ব্যবসা করতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলমের মা, স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত