টাকা পাচারকারীরা এখনো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে : প্রেস সচিব

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘দেশে আওয়ামী লীগ আমলে বিশে^র ইতিহাসে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। টাকা পাচারকারীরা এখনো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’ গতকাল শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও পরবর্তী প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক গণমাধ্যম আন্দোলনকারীদের ‘জাতির শত্রু’ হিসেবে তুলে ধরেছিল। গণমাধ্যমের ভাষা ব্যবহার করে তখন শাসকদের কাছে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল যে, এ আন্দোলনকারীদের দমন করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যদি ফ্যাসিস্ট শক্তি জয়ী হতো, তাহলে দেশের দুই লাখ মানুষকে জেলে যেতে হতো, আর তখন ন্যারেটিভ হতো যে কিছু ‘দুর্বৃত্ত’ দেশ জুড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কারা কেমন ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে আমরা আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করব। তাই সবাইকে তাদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ লিখে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ হলো ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা। সাংবাদিককে এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ছাত্রদল বা শিবির যার বিরুদ্ধেই রিপোর্ট হয়, তাহলে প্রথমে দেখতে হবে রিপোর্টটা সত্য কি না। সত্যি হলে তা মেনে নিতে হবে।’

জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকরা সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে ভূমিকা পালন করেছে, তা ঐতিহাসিক। এই আন্দোলনে দেশের টিভি, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ ও অনেক সিটিজেন সাংবাদিক ভূমিকা রেখেছে। এর বিপরীতে গিয়ে একটা পক্ষ কনসেন্ট তৈরির চেষ্টা করেছে যে, এই আন্দোলনকারী লোকরা বিটিভিতে আক্রমণ করেছে, মেট্রোরেলে হামলা করেছে। এরা-এরা সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী, এদের এদের মারো। তারা সন্ত্রাসী, তাদের হত্যা করা জায়েজ।’

এসব হলো মিডিয়ার ভাষা। এখানে যারা সাংবাদিকতা করেন বা করেন না, আপনাদেরকেও মিডিয়ার এই ভাষা বুঝতে হবে। মিডিয়া তার ভাষা দিয়ে নির্দেশ করে দেয়, ওনি সন্ত্রাসী, ওনি দুর্বৃত্ত।

প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘২০০৬-০৭ সালের জরুরি অবস্থাকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পারেনি। এটা ছিল মাইনাস টু থিওরি। আজকেও আন্দোলনের অংশীদাররা কাউকে মাইনাস করতে চাই, তাদেরও একই অবস্থা হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন লিমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন। আরও বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আসাদুল ইসলাম, জাস্টিস ফর জুলাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক সজিবুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জবি শিক্ষার্থী নূর নবী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত