সব প্রাণীর রিজিকের ব্যবস্থা করেন আল্লাহ। তিনি সর্বোত্তম রিজিকদাতা। তিনি যাকে ইচ্ছা তার রিজিক বৃদ্ধি করেন। আবার যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সংকুচিত করেন। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের এমন কিছু বর্ণনা রয়েছে, যেগুলোতে রিজিক বৃদ্ধির আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেগুলো তুলে ধরা হলো।
আল্লাহভীতি : পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন। তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সুরা তালাক ২-৩)
আল্লাহর ওপর ভরসা : পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।’ (সুরা তালাক ৩)
দান-সদকা করা : দান-সদকা করলে, কাউকে কর্জে হাসানা দিলে রিজিক বৃদ্ধি পায়। আর দুইবার কর্জে হাসানা দিলে একবার সদকা করার সওয়াব পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণ বাড়িয়ে দেবেন।’ (সুরা বাকারা ২৪৫)
কৃতজ্ঞতা আদায় করা : সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। তাহলে তিনি আমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড় কঠিন। (সুরা ইব্রাহিম ৭)
ক্ষমা প্রার্থনা করা : পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ ১০-১২)
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা : রাসুল (সা.) বলেছেন, যে কামনা করে তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং জীবন দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি)
সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবে তার ওপর অভাব আসবে না। (বায়হাকি ২৪৯) আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো করার তওফিক দান করুন। আমিন।