ফিলিস্তিনের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ইসলামবিদ্বেষী, আলেমবিদ্বেষী ও  ইসরায়েলপন্থীদের সমর্থক ছিল। বাংলাদেশের পাসপোর্টে ইসরায়েল ব্যতীত সকল রাষ্ট্র গমনের যে নির্দেশনা ছিল, সেখান থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তার মানে তারা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে 'নো ওয়ার্ক, নো স্কুল আনটিল দ্য জেনোসাইড স্টপস' কর্মসূচির সমর্থনে ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের জন্য বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানান।  

বিক্ষোভ সমাবেশে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। তবে পণ্য বয়কটের সাথে প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের বিরোধিতা করেন তারা। এ সময় নেতৃবৃন্দ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গ্রেফতারসহ গাজায় অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করার দাবি জানান। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণহত্যার পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ যোগাচ্ছে আমেরিকার মার্কিন বাহিনী। আমরা তার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাই। মুসলিম বিশ্বের যারা মোড়ল তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা সারা পৃথিবীতে নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে দাঁড়ান। আমরা অবিলম্বে ফিলিস্তিনের গাজায়, রাফায়, গণহত্যা বন্ধ চাই। সারা বিশ্বের মানুষ জেগে উঠেছে। গতকাল সারা দেশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা পত্রিকা থেকে যে পরিসংখ্যান পেয়েছি ৫০ থেকে ৬০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনবাসী যারা হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই পরিসংখ্যানের চেয়েও আরো বেশি ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা ইসরায়েলের পণ্য বয়কট করব। তার মানে এই না যে আমরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা করব। গতকাল বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের ব্যর্থতা এখানে লক্ষণীয়। তাদের উচিত ছিল আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা। তা না হলে বাংলাদেশের নামে এই বদনাম হত না।

সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে নো ওয়ার্ক নো স্কুল কর্মসূচির প্রতি ছাত্রদল সংহতি জানিয়েছে। ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী ৫১ হাজারের অধিক নিরীহ ফিলিস্তিনি হত্যা করেছে। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। ফিলিস্তিনে ধারাবাহিকভাবে যে গণহত্যা চলছে ছাত্রদল সেটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যারা রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সাধুবাদ জানাই।

তিনি বলেন, গতকাল যে বা যারা বাটা, কেএফসি ও পিৎজ্জা হাটে হামলা চালিয়েছে তাদের নিন্দা জানাই। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তি যারা অনলাইনসহ বিভিন্ন জায়গায় মব জাস্টিসের সূচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় তিনি ভারতে সদ্য পাশ হওয়া ওয়াকফ বিলের ব্যাপারে নিন্দা জানান।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ চলার পরেও যেসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধান প্রতিবাদ জানাননি তাদের আমরা ধিক্কার জানাই। জাতিসংঘসহ সকল মানবধিকার সংগঠন নিশ্চুপ। তাদের কোনো প্রতিবাদ নেই। আজ যদি সারা বিশ্বের মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে তাদের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত