ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদ পরিদর্শন করলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৩৩ এএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোশি ও তার স্ত্রী জাহেরা চাভোশি তিন দিনের সফরে দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছেন। সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদ পরিদর্শনে আসেন তারা।  

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত দম্পতি মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাস সম্পর্কে অবগত হন। খেরুয়া মসজিদ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ।  

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব শাহরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. রেজাউল করিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব গাজি সালাউদ্দীন তানভীর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ, শাহবন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইয়াসিন আলী হিমেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।  

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী দই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। সফরকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ মোতায়েন, চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে সফরটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  

প্রায় ৪৪০ বছর ধরে ইতিহাস ও স্থাপত্যের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা গ্রামের খেরুয়া মসজিদ। ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল মসজিদটি নির্মাণ করেন। সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের সমন্বয়ে গড়া এই মসজিদটি নির্মিত হয় ইট, চুন, শুড়কি ও কৃষ্ণ পাথরের মাধ্যমে।  

৫৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের এই মসজিদে রয়েছে তিনটি গম্বুজ, চারটি মিনার ও সাতটি প্রবেশদ্বার। পশ্চিম দেওয়ালে রয়েছে কারুকার্য খচিত তিনটি মেহরাব। মসজিদের কার্নিশ, খিলান ও ইটের নিখুঁত বিন্যাসে ফুটে উঠেছে অনন্য শৈল্পিকতা।  

লোককথা অনুযায়ী, মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুদূর আরব থেকে আসা কামেল ব্যক্তি আব্দুস সামাদ ফকির, যিনি কবুতরের সঙ্গে কথা বলতেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। তার নির্দেশেই মসজিদের দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিম পাশে কবুতরের জন্য ইবাদতের স্থান রাখা হয়।  

এক সময় পরিত্যক্ত হয়ে পড়া মসজিদটি ১৯৫৬ সালে সরকারিভাবে মেরামত করা হয় এবং পরবর্তীতে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আনা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত