কানের সেন্ট্রাল ইয়ারড্রাম পারফোরেশন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৬ এএম

সাধারণত ইনফেকশন বা আঘাত থেকে কানের পর্দার মধ্যভাগে ছিদ্র বা ক্ষত হলে তাকে চিকিৎসা সেন্ট্রাল ইয়ারড্রাম পারফোরেশন বলে। এক্ষেত্রে প্রথমে অ্যাকিউট স্যাপিউরেটিভ ওটিটিস মিডিয়া বা এএসওএম। এ সমস্যা ওষুধে না সারলে তিন মাসের মধ্যে এটা সিএসওএম বা ক্রনিক স্যাপিউরেটিভ ওটিটিস মিডিয়ায় হয়ে যায়। সিএসওএমতে অপারেশন করেই রোগী সুস্থ হতে পারেন।

লক্ষণ

মধ্যকর্ণে চামড়ার বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যাকে কোলেসটিয়াটোমা বলে। যা মূলত পেঁয়াজের খোসার মতো এক ধরনের কোশ কানের পর্দার পেছনে মধ্যকর্ণে বাড়তে থাকে। এটি জন্মগত হতে পারে । এর ফলে কানে বারবার সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে এবং চিকিৎসা না করলে কানের হাড়ের ক্ষয় হয়, মুখের নার্ভ বেঁকে যায়, খিঁচুনি, মাথা ঘোরা এবং ব্রেনেও প্রভাব পড়ে। দ্রুত অপারেশন না করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোলেসটিয়াটোমা থাকলে দ্রুতই চিকিৎসা করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে বহিঃকর্ণে কোলেসটিয়াটোমা গঠিত হয়ে কানের চামড়া ছিদ্রের মাধ্যমে মধ্যকর্ণে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই সমস্যা থাকলে অপারেশন করে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।

চিকিৎসা

অনেক ক্ষেত্রে কানের পর্দা ফুটো হয়ে গেলে তা ওষুধে সেরে যায়। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু যদি ইনফেকশন কানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে রোগীর অবস্থা পরীক্ষা করে কোন ধরনের অপারেশন করতে হবে ঠিক করা হয়।

মাইরিঙ্গোপ্লাস্টি : এই অপারেশনে কানের পর্দার পুনর্গঠন হয়। কানের ওপরের স্ক্যাল্পের চামড়া থেকে কানের পর্দার যেখানে ক্ষুদ্র ছিদ্র বা ক্ষত দেখা যায়, সেখানে লাগানো হয়।

টিমপ্যানোপ্লাস্টি : কানের পর্দায় বড় ছিদ্র বা ইনফেকশন থাকলে টিমপ্যানোপ্লাস্টি করা হয়।

ওসিকুলোপ্লাস্টি : ইনফেকশন বা আঘাতের কারণে যদি কানের তিনটি হাড়ের মধ্যে এক বা একাধিক হাড়ে পচন বা ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাহলে ওসিকুলোপ্লাস্টি করা হয়।

মাসটয়েডেকটমি : এটি সিএমওএম অর্থাৎ ক্রনিক স্যাপিউরেটিভ ওটিটিস মিডিয়া বা কোলেসটিয়াটোমার জন্য করা হয়। আবার কখনো কখনো এএসওএম হলে কানের  পেছনের হাড়ের জীবাণুমুক্ত করতেও করা হয়।

কানের যত্ন

দীর্ঘদিন সর্দি জমে কানের পর্দায় ক্ষত তৈরি হতে পারে। কানে সামান্য ব্যথা অনুভূত, বাচ্চাদের যাতে বারবার সর্দি, কাশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কানে পুঁজ হলে বা বাচ্চা কানে কোনো অস্বস্তি বোধ করলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বাচ্চাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন ও নিউমোকোক্কাল ভ্যাকসিন দিতে হবে। বাডস বা অন্য কিছু দিয়ে কান খোঁচালে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে তাদের কানের ভেতর চুলকায়।

কিন্তু বাডস বা অন্য কোনো কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করলে কানের ক্ষতি হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কানে ড্রপ বা কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।

অপারেশনের পর করণীয়

সাঁতার কাটা যাবে না। কোনোভাবে বাডস বা অন্য কিছু দিয়ে কান খোঁচানো যাবে না। বারো বছর বয়সের আগে বাচ্চাদের কানের পর্দা ফেটে গেলে বা কানে কোনো ক্ষত হলে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। যদি সিএসওএম-এর সঙ্গে কোলেসটিয়াটোমা থাকে তাহলে যে কোনো বয়সে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত