কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টি ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা,বাঘুটিয়া,চরকাটারী ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গনে ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,কয়েক শত ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।
এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ফলে প্রবল স্রোতে ভাঙ্গনে করাল গ্রাসে ঈদের দিন দুপুরে বাচামারা ইউনিয়নের নিজ ভারাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা পাকা ভবন নদী গর্ভে তলিয়ে যায় । ভাঙ্গনের হুমকির মুখে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা,পারুরিয়া বাজার,চরভারাঙ্গা বাজার,চরকাটারী ভোটঘর বাজার ,পারুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রংদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাহাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিজ ভারাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ভবন নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় ঐ বিদ্যালয়ের কমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের লেখা পড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ।
নদীপাড়ের মানুষ স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করলেও বর্ষার শুরুতেই তাদের ভাঙন আতঙ্কে প্রহর ঘুনতে হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ে ভাঙন শুরু হলে ঘরবাড়ি বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় পানি উন্নয়ন অফিস ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ হাজার জিও ব্যাগ ফালানোর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে,মানিকগঞ্জের বুক চিরে বয়ে গেছে পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী, ইছামতী, গাজীখালিসহ ১৪টি নদী।ভাঙন আতঙ্ক নদী পাড়ের মানুষেরে এযেন নিত্য দিনের সঙ্গি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ে ভাঙন শুরু হলে ঘরবাড়ি বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
জানা গেছে,দৌলতপুর উপজেলার চর কালিয়াপুর,বাঘুটিয়া, ভারাঙ্গা,রংদারপাড়া,বিষ্ণপুর,রামচন্দ্রপুর,আবুডাঙ্গা পূর্বপাড়া,চরকাটারি বোর্ডঘর বাজার,চরকাটারি সবুজসেনা হাইস্কুল,বাচামারা ইউনিয়নের চরভারাঙ্গা সরকার পাড়া,মজম শেকের পাড়া,বাচামারা পশ্চিম পাড়া,উত্তরখন্ড,সুবুদ্ধি,বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পাচুরিয়া , বাঘুটিয়া বাজার,পারুরিয়া বাজারসহ ২৮ টি এলাকা নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ।
বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম ইয়াছিন জানান, রাহাতপুর এলাকায় বালুমহল ইজারার নাম করে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পারুরিয়া এলাকা নদী থেকে বালু উত্তোলন কালে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে দুইটি বাল্কহেড আটক করে ছিল । অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এতে আমাদের গ্রামের কয়েকশ পরিবারকে অপূরনীয় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বালু না কাটলে আমাদের এলাকায় নদী ভাঙ্গন রোধ হবে ।
বাচামারা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী সরকার বলেন, নদীতে প্রবল স্রোতে ১৫ দিনে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে । চোখের পলকে নিজ ভারাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা পাকা ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে তলিয়ে গেলো । ভাঙনরোধে সরকারের কাছে ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নদীপাড়ের ঝুকিপূর্ণ স্থানগুলোর ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ হাজার জিও ব্যাগ ফালানোর কার্যক্রম শুরু করা হবে। এছাড়া নদী ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে ও কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে । নিজভারাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় । পারুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,রংদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরুরী ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
