প্রবল স্রোতের কারণে আবারও নদীতে ধসে পড়েছে পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের প্রায় ১৭০ মিটার এলাকা। সোমবার বিকেল থেকে ভাঙন শুরু হয় শরীয়তপুরের জজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায়। এ সময় নদীতে বিলীন হয় অন্তত ১৯ টি স্থাপনা। আতংকিত হয়ে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ। ইতোমধ্যে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ, টিন ও খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। আর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকার আব্দুল মান্নান মাদবর। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তার দুইটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। নদীর পাড়ে হওয়ায় ভাঙন আতংকে তাড়াহুড়ো করে সরিয়েছেন বসতবাড়ি। তাই সব হারিয়ে দিশেহারা তিনি।
কথা হয় আব্দুল মান্নান মাদবরের সঙ্গে। তিনি বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে নদীর পাড়ে আসি, এসে দেখি নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের সামনেই আমার দুইটা দোকান নদী গর্বে তলিয়ে গেছে। দোকান ভাড়া দিয়েই আমার সংসার চলত। পরে আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বসতঘর সরিয়ে নিয়েছি। এখন আমার আয় রোজগারের কিছুই নেই। স্ত্রী সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচব জানি না! সরকারের কাছে আমার দাবি, এখানে যেন টেকসই একটি বেড়িবাঁধ করে দেয়।
তার মতো একই অবস্থা রোকেয়া বেগমের। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তিনি। মাথা গোঁজার ঠাঁই চান রোকেয়া। তিনি বলেন, আমার বড় একটা ঘর আছিল নদীতে ভাইঙা নিয়া গেছে। অহন আমি চাইর মেয়ে, এক ছেলে নিয়া কিভাবে বাঁচুম, কিভাবে থাকুম বলতে পারুমনা! বাড়ি আর জমি হারাইয়া এক বাড়িতে গেছি, তাও ঘর দিয়া পানি পরে।
মান্নান ও রোকেয়ার মত ভাঙনের স্বীকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন জাজিরার মাঝিরঘাটের অনেক পরিবার। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি স্থায়ী একটি বেড়িবাঁধের।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ সালে পদ্মা সেতু থেকে জাজিরা মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করে সেতু কর্তৃপক্ষ। বাঁধটি তৈরি করতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা।
গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পদ্মার ভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের ১৭০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্রোতের তোরে বিলীন হয়েছে ১০টি বসতবাড়ি ও ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হুমকির মুখে মাঝিরঘাট বাজারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের তিনটি গ্রাম। ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অন্তত ২৬টি পরিবার। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে অনেকেই।
গত বছরের নভেম্বর এবং ৭ ও ৮ জুন বাঁধের দুটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার পদ্মা নদীতে ধসে পরেছিলো। সেখানে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। মাস না পেরোতেই আবারও সেই ২০০ মিটার অংশের পাশে নতুন করে ১৭০ মিটার বাধ ধসে গিয়েছে।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, ১০টি বসতবাড়ি ও ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীরা সরিয়ে নিয়েছে অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ, টিন ও খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ভাঙন রোধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জিও ডাম্পিং চলবে। আর স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে আগামী বর্ষার আগেই স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রেস উইং
মালিকের বিরুদ্ধে রিক্সাচালককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ