সবার জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মহাখালীতে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আয়েশা মেমোরিয়াল নামে আন্তরিকতার সঙ্গে নিবিড় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে দেশের মানুষকে। এরপর ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মেডিকেল কলেজ শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্যসেবার নানা বিভাগগুলোকে বিশেষায়িত করে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই দীর্ঘ সময়ের সাফল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে হাসপাতালটি নিজের সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করেছে ইতিমধ্যে। এখন দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অন্যতম রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত।
গত বছর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬০ হাজার রোগী, আন্তঃবিভাগে ৮ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। প্রতি বছরই রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০-১৫ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে বর্তমানে দুই শতাধিক চিকিৎসক, ৩৫০ জন নার্সসহ মোট ১ হাজার ৬৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৫০ জনের অধিক বিশেষজ্ঞ পূর্ণকালীন চিকিৎসক রয়েছেন। এ ছাড়া পার্টটাইম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক, যারা নিয়মিত বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগ রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ রয়েছে। বহির্বিভাগে মেডিসিন, হৃদরোগ, বক্ষব্যাধি, গাইনি, নিউরো মেডিসিন, লিভার, ক্যানসার, কার্ডিওলজি, হেমোটোলজি, নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টাররোলজি, সার্জারি, দন্ত বিভাগ, জেনারেল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, ইউরোলজি, মানসিক, অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য সেবাগুলোর মধ্যে ডায়ালাইসিস ইউনিট, আইসিইউ ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি, সিসিইউ, এনআইসিইউ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টার সার্ভিস পাওয়া যায়। আরও আছে মেডিসিন কর্নার।
হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির আর্থিক সংগতির কথা মাথায় রেখে ঠিক করা হয়েছে। এখানে ভিভিআইপি স্যুট ও মিনিস্টারিয়াল কেবিনও আছে। দরিদ্র রোগীদের জন্য মেডিকেল কলেজের ১০ শতাংশ শয্যা বরাদ্দ আছে; এখানে রোগীরা সরকারি হাসপাতালের মতো সুবিধা পাবেন। এটি একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেজড হাসপাতাল এবং ওয়ান স্টপ কার্ডিয়াক সেন্টার। তাই একেবারে সাধারণ রোগীদের জন্য এই হাসপাতাল কিছুটা ব্যয়বহুল মনে হতে পারে। তাই এ ধরনের রোগী ভর্তি হলে আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে তাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রেফারের ব্যবস্থা করা হয়। এই হাসপাতাল বিভিন্ন দুর্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কভিড মহামারীতে সরকারের আহ্বানে প্রথম যে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ কভিড চিকিৎসা শুরু করে, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তার অন্যতম। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এ দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৬০ শতাংশের বেশি রোগী বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে থাকে। ইতোমধ্যে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের সুপার স্পেশালিটি ইউনিভার্সেল মেডিসিটির নির্মাণকাজ চলছে। যেখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনসহ উন্নত বিশ্বের সব চিকিৎসা সুবিধা যৌক্তিক ব্যয়ে বিদ্যমান থাকবে। হৃদরোগ চিকিৎসায় আমেরিকার কার্ডিয়াক অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুসরণ করেন।
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে ইউনিভার্সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নরসিংদীর পলাশে ৪০ বিঘা জায়গায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, ওল্ড রিটারমেন্ট হোম তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়াও ইউনিভার্সেল কেয়ার গিভারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউনিভার্সেল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ার গিভাররা জাপানে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। এখানকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সরা দেশে ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এখান থেকে এমবিবিএস পাস করা ডাক্তাররা ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে কাজ করছেন। গবেষণায়ও নিযুক্ত আছেন অনেকে। শুধু ঢাকার মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যে তাদের কাজ থেমে নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস। যেখানে ঢাকার মতোই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন ২৪ ঘণ্টাই। এ ছাড়াও আগামীতে ঢাকার আশপাশের ৫টি জেলায় ইউনিভার্সেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিভার্সেলের আইসিও অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি যৌথ ব্যবস্থাপনায় আইসিও হেলিকপ্টার সার্ভিসও রয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মুমূর্ষু রোগীকে ১ ঘণ্টার মধ্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব। ইউনিভার্সেল মেডিকেল চিকিৎসাসেবায় উন্নত ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-ের নীরবে রেখে চলেছেন অসামান্য অবদান। এক যুগ ধরে প্রতি বছর মা দিবসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল গরবিনী মায়েদের সম্মাননা জানানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রতি বছর ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবসে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের পাশাপাশি ফ্রি রোডক্যাম্পও করা হয়। আর এসব ক্যাম্পে বিনামূল্যে মানুষকে নানা ধরনের সেবা দিচ্ছেন। আগামীতে হার্টক্লাব করারও পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব রোগী অসুস্থ হয়ে ইউনিভার্সেলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন তাদের স্বজনদের জন্য ইমাজেন্সিতে ডায়াবেটিক, উচ্চরক্তচাপ পরীক্ষাসহ নানা ধরনের সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক কথায় বলা যায়, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি গণমাধ্যমবান্ধব হাসপাতাল। দেশের করপোরেট সংস্থার পাশাপাশি অধিকাংশ গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের রয়েছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে ভূমিকা রেখে চলেছেন নীরবেই।
