ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ৯নং চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ঐ পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।। এসব বিষয় প্রকাশের পর পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একই উপজেলার অন্য ইউনিয়ন ও অন্য উপজেলার বাসিন্দারা তাদের স্ব স্ব ঠিকানা বহাল রেখে এ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন নিয়েছেন এমন একাধিক তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
জন্মনিবন্ধন করার ক্ষেত্রে নাগরিক যে ইউনিয়নের বাসিন্দা, সে নাগরিক তার নিজের ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন তৈরি করবে এটা সরকারি বিধি বিধান রয়েছে। এদিকে সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চর ইসলামপুর ইউপি সচিব আমিনুল ইসলাম অবৈধ পন্থায় অন্য ইউনিয়নের লোকজনদেরকে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান -১ ইমাম হোসেন বলেন, সচিব নানা ভাবে জন্মনিবন্ধন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলার কসবার উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন একজনের একটি নিবন্ধন আমার পরিষদ থেকে তৈরি করে দেন সচিব। এটা নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে কাজ করতে গেলে তখন আটকা পরে এবং আমি জানতে পারি। তখন আমি সচিবকে কঠোর ভাবে সতর্ক করেছি যেন ইউনিয়নের বাহিরে ভুয়া কোন জন্মনিবন্ধন না করেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই থামছে না। চেয়ারম্যান দাবি করেন অগোচরে সচিব তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বাইরের মানুষদেরকে জন্মনিবন্ধন বানিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি মৌখিক ভাবে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। তিনি লিখিত অভিযোগও দিবেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সচিব আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ইউনিয়নের বাহিরে লোকদের জন্মনিবন্ধন দেয়ার কোন বিধান নাই, এটা অপরাধ সেটাও তিনি জানেন। কিন্তু অপরাধ জেনেও এ ধরনের ভুয়া জন্মনিবন্ধন কেন তৈরি করছেন এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এক পর্যায়ে তিনি তার ইউনিয়নের বাহিরে কিছু লোকদেরকে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
চর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক মেম্বার জানান, এ পরিষদে সচিব আমিনুর রহমান আসার পর জন্মনিবন্ধন বাণিজ্য চলছে বলে আমরা প্রায়ই শুনি কিন্তু ধরতে পারি না। আজ প্রমানিত হলো ঘটনা সত্য। মেম্বাররা অভিযোগ করেন এ সচিব ইউনিয়নের মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। তাকে কিছু টাকা দিলে সবকিছু সমাধান হয়ে যায়। আমাদের চেয়ারম্যানে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তিনি মারাত্মক অন্যায় করেছে। সচিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
