ব্রঙ্কো টেস্ট নিয়ে ভারতীয় দলে নানা গুঞ্জন আর আতঙ্ক

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

এশিয়া কাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ব্রঙ্কো টেস্ট। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ অ্যাড্রিয়ান লে রু দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস যাচাই করার জন্য ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবং ২ কিমি টাইম ট্রায়ালের পাশাপাশি ব্রঙ্কো টেস্টকেও যুক্ত করার কথা ভাবছেন। ভীষণ কঠিন এই ফিটনেস পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ব্রঙ্কো টেস্ট নিয়ে ভারতীয় দলে নানা গুঞ্জন আর আতঙ্ক ভর করেছে। কবে নেওয়া হবে এই টেস্ট- সেটা কেউ জানে না। একটি সূত্র বলেছে, ‘এশিয়া কাপ খেলতে ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে দুবাই যাবে ভারতীয় দল। সেখানকার আইসিসি একাডেমিতে তারা অনুশীলন করবে। তাই যদি ম্যানেজম্যান্ট চায়, তাহলে দুবাইতেও ব্রঙ্কো টেস্ট হতে পারে।’

তবে গণমাধ্যমটি বলছে, ব্রঙ্কো টেস্ট হয়তো এখনই দল নির্বাচনের মানদণ্ড হবে না। তবে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা সব খেলোয়াড়দের তাদের ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে, বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পরে এবং মৌসুম শুরুর আগে। ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলা কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার লম্বা বিরতিতে আছেন। কয়েকজন আবার এশিয়া কাপেও ডাক পেয়েছেন। এশিয়া কাপের পর উইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে ভারতের হোম মৌসুম শুরু হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাথে একটি আড্ডায় কোচ সোহম দেশাই বলেছেন, ‘কোহলি-শাস্ত্রীর আমলে শঙ্কর বসুকে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে সবাইকে ফিটনেসের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সবাই এতে একমত হয়েছিলেন এবং এটি একটি নির্বাচনের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে আমরা প্রতি বছর প্রায় সমস্ত চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের জন্য বছরে তিনবার ইয়ো-ইয়ো পরীক্ষা করেছি। কিন্তু এটি কখনও নির্বাচনের মানদণ্ড ছিল না। তবে এটি (ব্রঙ্কো টেস্ট) একটি ফিটনেস মূল্যায়নের প্যারামিটার যেখানে আমরা কোচ হিসেবে আমরা ক্রিকেটারর ফিটনেস সম্পর্কে ধারণা পাই।’

ব্রঙ্কো টেস্ট মূলতঃ রাগবি এবং ফুটবল খেলোয়াড়দের ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষায় পাঁচটি সেটে ২০ মিটার, ৪০ মিটার ও ৬০ মিটার দৌড়াতে হয়। মোট ১,২০০ মিটার। সম্প্রতি সাবেক প্রোটিয়া মহাতারকা এবিডি ভিলিয়ার্স এই টেস্ট নিয়ে বলেছেন, ‘এটা সতীর্থদের কাছেই প্রথম শুনেছি, আমি জানতাম না ব্রঙ্কো টেস্ট কী। তারা তখন আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা এটিকে “স্প্রিন্ট রিপিট এবিলিটি টেস্ট” বলি। এটা সবচেয়ে কষ্টকর টেস্টগুলোর একটি। শীতকালে প্রিটোরিয়া বা সুপারস্পোর্ট পার্কে, যেখানে অক্সিজেন কম থাকে, এই টেস্ট দিতে গিয়ে যেন প্রাণ বেরিয়ে যেত!’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত