খুলনার একটি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির অপরাধে শাহাজাদী নামের এক প্রসুতি ও তার ১১ দিনের কন্যাসন্তানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জামিনের জন্যে আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শাহাজাদী কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ও তার ১২ দিনের মেয়েকে সুচিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে পাঠানো হয়। সেখানে পৃথক কেবিনে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও ফকিরহাটের মেয়ে শাহজাদীর সংসারে চারটি কন্যা শিশু রয়েছে। গতবছর আবার গর্ভবর্তী হন শাহজাদী। অনাগত সন্তান যেন ছেলে হয়, সেজন্য স্বামী ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশার চাপ ছিল। মেয়ে হলে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকিও ছিল। এমন অবস্থায় ১১ সেপ্টেম্বর রাতে সিজারিয়ানের মাধ্যমে মেয়ে শিশু জন্ম দেন শাহজাদী। এ খবর শুনেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান সিরাজুল। এরপর আর হাসপাতালে যাননি, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। এভাবে নানামুখী চাপে দিশেহারা শাহজাদী ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে একই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া আরেক রোগীর ছেলে সন্তান চুরি করেন।
এরপর সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতা ওই দিন সন্ধ্যায় নবজাতকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় শাহজাদীকে। এ ঘটনায় শাহজাদীর বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেন চুরি যাওয়া শিশুর বাবা মির্জা সুমন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের পাহারায় অসুস্থ শাহাজাদী ছিলেন হাসপাতালে। রবিবার তাকে আদালতে তোলা হলে কোন আইনজীবীই তার পক্ষে জামিনের জন্য আদালতে দাঁড়ায়নি। সে কারণে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শাহজাদী ও তার শিশু মেয়েকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার কয়েক জন আইনজীবী জামিনের শুনানিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ রফিকুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মহানগর আদালতে বাদির আবেদনও তুলে ধরবো। আশা করি জামিন হয়ে যাবে।
