অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, কার্ডিওলজি বিভাগ, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ব জুড়ে ২৯ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব হার্ট দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘ডোন্ট মিস এ বিট’ অর্থাৎ ‘একটি বিট মিস করবেন না’ হার্ট ফেইলিউর হলো হৃদপি- দুর্বল হয়ে সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হার্ট সরবরাহ করতে পারে না। হার্টের পাম্পিং কম হওয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ফুসফুসে পানি জমা, পা ফুলে যায়, পেটে পানি জমা; পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের অভাবে কিডনি, মস্তিষ্কে সঠিকভাবে কাজ করে না। রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়ার সমস্যা হয়।
কারণ
আগে হার্ট অ্যাটাক হলে বা হৃদপিন্ডের রক্তনালিতে ব্লক থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, গর্ভকালীন হৃদপিন্ডের জটিলতা, হার্টের ভাল্বে সমস্যা, হার্টে জন্মগত ত্রুটি, পুষ্টিহীনতা ও ইনফেকশন ইত্যাদি।
কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে
হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হয়। পা বা পায়ের গোড়ালি ফুলে বা পেট ফুলে গেলে। প্রতিদিন সকালে নাশতা করার আগে শরীরের ওজন মাপা। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, যেমন দিনে এক কেজি অথবা সপ্তাহে দুই কেজি করে ওজন বৃদ্ধি পেলে। অল্পতে পরিশ্রান্ত হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া অথবা হঠাৎ দুর্বল লাগা। ঘনঘন শুকনা কাশি হলে। শ্বাসকষ্টের কারণে ঘুমানোর সময় উঠে বসতে হয়। বুক ধড়ফড় বা বুকে ব্যথা হলে।
যা করতে হবে
প্রতিদিন পানি এবং পানীয় মিলিয়ে ১ থেকে ১.৫ লিটার পান করা। শরীর ফুলে গেলে বা পায়ে পানি বা শ্বাসকষ্ট হলে পানি আরও কম পান করতে হবে।
প্রতিদিনকার লবণের পরিমাণ জেনে নিন। বাড়িতে যে খাবার রান্না হয়, সেখান থেকে নির্ধারিত খাবারে লবণের পরিমাণ হিসাব করে নিন। দিনে ১ চা চামচের এক চামচের বেশি লবণ খাবেন না।
রক্ত নালির ব্লকজনিত (ইসমেমিক) কারণে হার্ট ফেইলিউর হলে চর্বি জাতীয় খাবার, যেমন গরু, খাসি, মগজ, চিংড়ি, কলিজা, হাঁস, মুরগির চামড়া, হাড়ের অস্থিমজ্জা, ডিমের কুসুম, ঘি, মাখন, বার্গার, স্যান্ডউইচ খাবেন না।
মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাবেন। ডায়াবেটিস থাকলে পুরোপুরি মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দেবেন।
ডাক্তার নির্দেশিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার গ্রহণ।
নিয়মিত ওষুধ সেবন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করবেন না। নতুন কোনো ওষুধ খেলেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে জানাবেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, লিভারের সমস্যা, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
জীবনযাপনে পরিবর্তন
ধূমপান, মদ্যপান, তামাকজাত পণ্য, যেমন জর্দা, সাদাপাতা, খৈনি ও অন্য নেশা জাতীয় দ্রব্য বাদ দিন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন। পরে হালকা ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা।
প্রতি বছর একবার ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা এবং পাঁচ বছর পর পর নিউমোনিয়ার টিকা দেবেন। ওপরের নিয়মগুলো না মেনে চললে, যেমন অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত ওষুধ সেবন এবং নিয়মবহির্ভূত খাওয়া-দাওয়া হলে রোগীদের হার্ট ফেইলিউরের উপসর্গগুলো অনেক বেড়ে যাবে।
