নরসিংদী

চাঁদাবাজদের ছাড়িয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ওপর হামলা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম

নরসিংদীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে আটক করা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন শামীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের আরশিনগর মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন শামীম (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার পুরানপাড়া এলাকায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে শহরের আরশীনগর মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ রমজান ও সেলিম নামে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে। আটককৃতদের আটকের খবর শুনে ইজারাদার আলমগীরসহ ৩০ থেকে ৪০ জন লোক ঘটনাস্থলে আসেন। তারা আটকৃকতদের ছাড়িয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে হুমকি দিতে থাকেন। এতে পুলিশ সুপার তাদের ছাড়তে নারাজ হলে তারা পুলিশ সুপারের ওপর হামলা চালান। এ সুযোগে তারা দুই চাঁদাবাজকে নিয়ে সটকে পড়েন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদা গুলশানা কবির বলেন, আনোয়ার হোসেনের ঘাড় ও পায়ে আঘাতজনিত রক্ত জমাট বেঁধেছে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, দুই চাঁদাবাজকে হাতেহাতে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসা করতে থাকাবস্থায় ৩০-৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ি। পরে আমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

নরসিংদী পৌর সভার সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ইজারাদার জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ এর বড় ভাই আলমগীর। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভার দেওয়া নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই ইজারার টাকা তোলা হয়। এর আগে তিনি আমার দুইজন লোককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছেন। আজকেও ইজারার টাকা তোলার সময় উনি দুইজনকে আটক করেন। আমি খবর পেয়ে গেলে তিনি হাইকোর্টের কথা বলেন, কিন্তু আমি পৌরসভার অনুমতি নিয়ে টাকা তুলছি। পুলিশের ওপর হামলার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের ওপর হামলার খবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত