পদ্মা নদী পার হয়ে কুষ্টিয়াতে যাচ্ছি। সঙ্গে বোন আর বোনের ছেলেমেয়ে আছে। বর্ষাকাল। রাস্তার দুপাশ ডুবে আছে পানিতে। থেকে থেকে সেখানে সবুজ ঘাস মাথা উঁচিয়ে আছে। আকাশের ভেসে যাওয়া মেঘের প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছে পানিতে। অসাধারণ মোহনীয় দৃশ্য। ভাগ্নেকে বললাম, ‘দেখ কী অপূর্ব!’ ভাগ্নে দেখল। মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, ‘মামা, জটিল।’ হতভম্ব হয়ে গেছি। এ রকম মন ভালো করা সুন্দর দৃশ্যের ভেতর সে জটিলতা কোথায় খুঁজে পেল! অবাক হয়ে বললাম, ‘কীসে তোমার মনে হচ্ছে, এটা অত্যধিক জটিল বিষয়?’ ভাগ্নে বলল, ‘ফাটাফাটি, মামা। মাথা নষ্ট। তব্দা খেয়ে গেছি।’ তখন বুঝতে পারলাম, এসব আধুনিক শব্দের কথা। বাংলা ভাষায় চলে আসা এসব শব্দের সঙ্গে, আমাদের মতো প্রাচীনদের পরিচয় নেহাতই কম। বিপত্তি বাধে যখন কোনো কিছুকে আমরা নিজের মতো করে অর্থ করি এবং অন্যকে, সেই অর্থ মেনে নেওয়ার জন্য বাধ্য করতে চাই। ছোটবেলা থেকে আমরা শব্দের অনেক অর্থ শিখি। বড় হতে হতে ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন অর্থ জানতে পারি। ‘মাল’ বলতে ছোটবেলায় শিখেছি ‘সম্পদ’। বড় হতে হতে শিখলাম ‘মাল’ অর্থ ‘টাকা-পয়সা (মাল-কড়ি’, ‘অস্ত্র’, ‘মদ’, কখনো-কখনো ‘মানবসন্তান’। শব্দের অর্থ আমরাই বদলে দিই। নতুন অর্থ আরোপ করি, বিকৃত করে ফেলি।
বেশিরভাগ সময় আমরা যেসব শব্দ বা ইঙ্গিত-আকার ব্যবহার করি- আমাদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি প্রভৃতির দ্বারা তার একটা অর্থ আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকে। যেমন ‘ডুমুরের ফুল’-মানে ‘অদৃশ্য বস্তু’। বা ‘অন্ধকারে ঢিল মারা’ বলতে আমরা ‘আন্দাজে কোনো কাজ করা’কে বুঝি। আমরা নিজেরা অর্থ তৈরি করি, পরিবর্তন করি, নিজেদের সুবিধামতো এদের সাজিয়ে নিই। এই সমস্ত অর্থ আমাদের অন্তর্গত। যখন আমরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করি তখন আমাদের অন্তর্গত নিজস্ব অর্থ সংবলিত সেই শব্দ, ইঙ্গিত-আকার ব্যবহার করি। ‘আমরা যে অর্থ করি, অন্যেরা প্রায়শ সেই অর্থ করেন সবসময় করেন না। যেমন কোনো একজন ব্যক্তির বিশেষ কোনো মন্তব্যে আপনি হয়তো খুব খুশি হয়েছেন। খুশি হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক দেওয়ার মতো করে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ প্রদর্শন করে বললেন, ‘গুড, ভেরি গুড’। তিনি আপনার এই আচরণে খুবই মর্মাহত হতে পারেন। তিনি দেখলেন তার মন্তব্য শুনে আপনি তাকে অবজ্ঞা করে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখাচ্ছেন। স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ দাঁড়ায়, ‘কচু হয়েছে। অর্থাৎ ‘তুমি যা বলেছ, তা পুরোটাই ভুল, কিচ্ছু হয়নি।’ ডেভিড কে বার্লো তার ‘দি প্রসেস অব কমিউনিকেশন’ বইতে শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, শব্দের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই লোকে অর্থ আরোপ করেন, তাই তার অর্থ। অর্থ আছে জনগণের মধ্যে শব্দের মধ্যে নয়। শব্দ আদৌ কোনো অর্থ বহন করে না অর্থ বহন করেন জনসাধারণ এবং তারা অনেক সময় একই শব্দের একরকম অর্থ করেন না। অর্থ আমাদের মধ্যে নিহিত- বার্তার মধ্যে নয়। অর্থ বার্তার মধ্যে থাকে না অর্থ থাকে বার্তা ব্যবহারকারীদের মধ্যে। সব লোক কেবল সেই পরিমাণে এক রকম অর্থ পেতে পারেন, যে পরিমাণে তারা এক রকমের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন কিংবা একই ধরনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বলে ধারণা করছেন। অর্থ কখনো নির্দিষ্ট থাকে না অভিজ্ঞতা যত বদলায়, অর্থও বদলায়।
বিশেষ একটি ঘটনার উল্লেখ এখানে প্রাসঙ্গিক হবে বলে মনে করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক অধিদপ্তর পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক আগে একটা পোস্টার প্রকাশ করেছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’। এই বার্তার মধ্য দিয়ে খুব স্পষ্টভাবেই বোঝাতে চাওয়া হয়েছিল যে, পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত কম হবে, পরিবারে তত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ বিরাজ করবে। পারিবারিক সংকটকে অনায়াসে মোকাবিলা করে পরিকল্পিতভাবে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ সহজতর হবে। যার অর্থ, সন্তান সংখ্যা দুইয়ে সীমিত রাখা। চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষ ‘পরিবার’ বলতে বোঝেন নিজ স্ত্রী। হয়তো স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একজন কোথাও যাচ্ছেন। পথে পরিচিত কেউ জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই কোন যাচ্চ’? তিনি উত্তর দেবেন, ‘পরিবারকে নিয়ে একটু ডাক্তারবাড়ি যাচ্চি’ এ রকম। তো ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’ বার্তা সংবলিত পোস্টার যখন ওই অঞ্চলে লাগানো হলো, তখন স্থানীয় জনগণ এর অর্থ করলেন ‘স্ত্রী যত ছোট হবে, অর্থাৎ স্ত্রীর বয়স যত কম হবে, ততই সুখ।’ যেহেতু তারা ‘পরিবার’ বলতে বোঝেন স্ত্রী। ফলে বাল্যবিবাহের হার বেড়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছাল। বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হারও বেড়ে গেল। এলাকার মানুষদের কাছে যখন জানতে চাওয়া হলো, ‘তোমরা কেন এত কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছ?’ তারা জানালেন, ‘কেন গরমেন (গভর্নমেন্ট) কয়েছে, বউ যত ছোট হবি, তত সুখ।’ সরকার তড়িঘড়ি করে সব পোস্টার গুটিয়ে ফেললেন। অথচ পোস্টারের সেই বার্তা কিন্তু সুস্পষ্ট একটি অর্থ বহন করছিল। তবে যে অর্থে কথাটি বলা হয়েছিল, ওই অঞ্চলের মানুষ ঠিক সেই অর্থে কথাটি ধরতে পারেননি। আবার দেখা যায়, একই শব্দ অঞ্চলভেদে অর্থ ভিন্ন। যেমন ‘বলদা’। মূল শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত বলিবর্দ থেকে। বগুড়া অঞ্চলে ‘ছায়াপথ’কে বলদা বলে। খুলনা অঞ্চলে বলদা বলতে বোঝায়, হৃষ্টপুষ্ট লোক। পাবনা অঞ্চলে দাঁড় বা বৈঠার দড়িকে বলে বলদা। ঢাকা, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে বলদা বলতে বোঝায় ‘বোকা’। উপভাষার বিশেষ গুরুত্ব অনুধাবন করেন ভাষাতাত্ত্বিকগণ। এর পাশাপাশি উপভাষার গুরুত্ব আছে নৃতত্ত্বে। এক জায়গার ভাষার সঙ্গে অন্য জায়গার ভাষার বিশেষ মিল পাওয়া যায়। চুয়াডাঙ্গায় ব্যবহৃত অনেক শব্দের হুবহু মিল দেখা যায় পাবনা (ফ্যার, যুত), রংপুর (অক্ত, আত) ও রাজশাহীতে (টায়টায়, ঠ্যাটা)। ‘নক কইরি থাকা’। আবার চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহীতে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গে কোথাও কোথাও চুয়াডাঙ্গায় ব্যবহৃত শব্দের সন্ধান মেলে। যেমন জাড়, শইটকি ইত্যাদি। কোথাও আবার চুয়াডাঙ্গার কোনো শব্দের বিকৃত উচ্চারণ লক্ষ্য করা যায়। অগা-অঘা, তবিল-তপিল ইত্যাদি। এর সাহায্যে ভাষাতাত্ত্বিকগণ যেমন ভাষা প্রবাহের স্রোতধারার সন্ধান করতে পারেন, তেমনি নৃতাত্ত্বিকগণ খুঁজে পান নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ, চলাচল, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। ভাষা এক জায়গায় আটকে থাকে না। ভাষা চলমান। নানা গ্রহণ আর বর্জনের মধ্য দিয়ে সে গতিশীল এবং সেটাই তার সজীবতার লক্ষণ। তার রূপের বদল হয়। বৈদিক ভাষা আর পরবর্তীকালের সংস্কৃত ভাষার মধ্যে ব্যবধান প্রচুর। সংস্কৃত অবশ্যই এক সংস্কারকৃত অর্থাৎ পরিবর্তী সময় ভাষা। তার লিখিতরূপের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হয়েছে, পাণিনির ব্যাকরণকে ভিত্তি করে। পাণিনি-পরবর্তী যুগে বৈদিক ভাষা অব্যবহারের পর্যায়ে চলে গেছে। ব্যাকরণও এক জায়গায় আটকে থাকে না। ভাষার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবধারিতভাবে তারও পরিবর্তন ঘটে। সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত হলেও বাংলাভাষা সংস্কৃত ব্যাকরণকে পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারেনি। সেটা সম্ভবও ছিল না। বরং পণ্ডিতরা অনুভব করতে পেরেছেন যে, বাংলা ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণের প্রয়োজন আছে। সব ভাষাতেই কিছু শব্দ আছে যেগুলোর সৃষ্টি সীমিত বন্ধুমহলে অথবা অপরাধজগতে। এদের উদ্ভব চটক সৃষ্টি অথবা বিশেষগোষ্ঠীর মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষার কারণে। ইংরেজিতে এ ধরনের শব্দকে বলা হয় ংষধহম, বাংলায় অপশব্দ। নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে এদের কিছু শব্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে, পরে সংবাদপত্রে ও সাহিত্যে। বাংলায় এ জাতীয় শব্দ আগেও এসেছে ও ব্যবহারিক প্রয়োগে স্থান লাভ করেছে। উদাহরণ হলো বিচি (গুলি), চিটিংবাজ (প্রতারক), তিলেখচ্চর (খুব পাজি), ফুটানি (গর্ব) ইত্যাদি। সাম্প্রতিকতর সংযোজন হলো ঝাড়, ধোলাই, আঁতেল, ঢপ, চামচা, মুর্গি করা (হিন্দি কথ্যজগতের ‘মুর্গা বনানা’ থেকে সরাসরি আমদানি), স্পিকার হয়ে যাওয়া (হতভম্ব হয়ে যাওয়া অর্থে) ইত্যাদি।
বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারে বহিরাগত শব্দের সংখ্যা বিপুল। সেটা যেকোনো ভাষার সজীবতার লক্ষণ। সুদীর্ঘকাল তুর্ক-আফগান ও মুঘল শাসনের প্রভাবে আরবি-ফারসি-তুর্কি শব্দের অনুপ্রবেশ সর্বাধিক প্রায় হাজার তিনেক। তা ছাড়া পোর্তুগিজ শখানেক, কিছু ওলন্দাজ ও চীনা, আর হাজার দেড়েক ইংরেজি। অনুপ্রবেশ পর্যবসিত হয়েছে আত্মীকরণে। আজব, আসবাব, এলাকা, উকিল, ওজন, কায়দা, খাতির, খারিজ, জরিমানা, জ্বালাতন, দাবি, বাকি, মতলব, মেজাজ, মেহনত, হাওয়া, হুকুম এসব আমরা কি আর আরবি ভেবে ব্যবহার করি! তেমনি আন্দাজ, কোমর, খরচ, খরিদ্দার, গরম, চশমা, চামচ, চাকর, দরখাস্ত, দরজা, দোকান, নরম, পছন্দ, বন্দোবস্ত, বাজার, রুমাল, সবুজ, সরকার, সরঞ্জাম এসব যে ফারসি শব্দ তার খবর কে রাখে! এখনো আইন আদালতে ব্যবহৃত বহু পরিভাষাই ফারসি। তুর্কি শব্দের কিছু উদাহরণ আলখাল্লা, উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুলি, দারোগা, বাবুর্চি, বাবা, বারুদ, বোঁচকা। আবার পর্তুগিজ শব্দ হচ্ছে আনারস, আলমারি, ইস্পাত, চাবি, জানালা, পেঁপে, পেরেক, বোতাম, বারান্দা ইত্যাদি। বলা বাহুল্য, এসব বিদেশি শব্দগুলোর আসল রূপ আর উচ্চারণ বদলেছে বাংলায়। এমন কী অর্থের পরিবর্তন ঘটেছে কিছু শব্দের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নিদারুণভাবে। যেমন জাঁদরেল শব্দটি চেহারায় বাংলা হলেও আদতে তা ইংরেজি শব্দ। ইংরেজি ‘জেনারেল’ শব্দটি হিন্দি জবানে ঘুরপাক খেয়ে বাংলায় এসে জাঁদরেল হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে সাধারণ মানুষজন অতিদূর থেকে ইরেজ জেনারেলকে দেখে যে ভাবনায় ভাবিত হয়েছে, তারই বিমূর্ত প্রকাশ হলো জাঁদরেল শব্দটি। ইংরেজি থেকে বাংলায় এসেছে অর্ডার, উল, কলেজ, কাটলেট, কার্পেট, কেরোসিন, চেক, চেয়ার তাদের নিজস্ব রূপে; আপেল, আপিল, ইঞ্চি, ইশকুল, টেবিল, ডাক্তার, বুরুশ, বেঞ্চি হাসপাতাল পরিবর্তিত রূপে। এদিকে দেখা যায়, নাশতা ফারসি ভাষার একটি শব্দ। উচ্চারণ মোটামুটি ঠিক থাকলেও বাংলায় এসে শব্দটার অর্থ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। ফারসিতে নাশতা শব্দের অর্থ হলো ক্ষুধার্ত, যে সকালে কিছুই খায়নি। বাংলায় তা হয়েছে সকালের খাবার। তা অবশ্যই ইংরেজি ‘ব্রেকফাস্ট ’ ঘুরে এসে।
এখন আমরা অভ্যস্ত হচ্ছি, নতুন নতুন শব্দে ফ্রান্স (ফ্রান্স, আই হ্যাভ আ কোয়েশ্চেন, খেলা হপ্পে ফ্রান্স, ওকে ফ্রান্স, কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, ফ্রান্স)। এটি ইউরোপের দেশ ফ্রান্স নয়। ইংরেজি শব্দ ফ্রেন্ডেসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ ছাড়াও খারাপ শব্দ হয়ে গেছে ‘খ্রাপ’, বিনোদন হয়েছে ‘বিনুদুন’, মন চায় হয়েছে ‘মুঞ্চায়’। পড়ি নাই হয়েছে ‘পড়িনাইক্যা’। কী করতাম হয়েছে ‘কীত্তাম’। ‘মাথা নষ্ট’ বলতে মানসিক ভারসাম্যহীনতা বোঝালেও, এখন তার অর্থ বদলে কোনো কিছুর প্রতি সন্তুষ্ট বা বিস্ময় প্রকাশে এই কথা ব্যবহার করা হয় (ফ্রান্স, ছবি দেখে তো আমার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে)। একই সঙ্গে ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে অস্থির, সেই, জোশ, চরম, মাখন, অসাম, রুচি, ব্যাপক, প্যারা, লোলের মতো শব্দগুলো। উদাহরণ হিসেবে কথ্য ভাষায় এর মধ্য থেকে কয়েকটি শব্দের ব্যবহার দেখা যেতে পারে। জোশ তুই যত যা-ই বলিস, মামা, ছবিটা কিন্তু মারাত্মক। একটু বেশিই জোশ। প্যারা, পার্ট- দেখলাম তো ফেবুতে চেক ইন দিছস। আমার লগে যাইতে প্যারা খাইলা। পার্টের উপ্রে পার্ট নিলা। ভাষাবিদরা বলেন, ভাষা হচ্ছে নদীর মতো বহমান। বাঁকে বাঁকে তার পরিবর্তন ঘটে। নিয়ম দিয়ে ভাষার ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। যে ভাষা আসছে, তা ভাষার বিকাশ ঘটাতে না কি বিকার ঘটাতে সহায়তা করবে, তা সময় বলে দেবে।
লেখক: চাইল্ড কেয়ার, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালট্যান্ট, ইউনিসেফ