অ্যাশেজ সিরিজে ভরাডুবির পর প্রস্তুতি নিয়ে আত্মসমালোচনায় নামলেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। অ্যাডিলেড টেস্টে ৮২ রানে হেরে মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার পর তিনি স্বীকার করেছেন, অ্যাশেজের জন্য দলের প্রস্তুতি ঠিক পথে ছিল কি না—সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট হেরে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খুঁইয়েছে ইংল্যান্ড। সামনে আরও দুটি টেস্ট আছে। অ্যাডিলেড টেস্টে হারের পর ম্যাককালাম বলেন, ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তার মতে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ধারাবাহিক, নিখুঁত ও শক্তিশালী পারফরম্যান্স।
ম্যাককালাম বলেন, ‘আমরা অবশ্যই হতাশ। আমরা এখানে উচ্চ প্রত্যাশা, উচ্চ লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তিনটি টেস্টে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। যখন প্রত্যাশা পূরণ হয় না, তখন হারের দায় মেনে নিতে হয়। আমরা জানতাম অস্ট্রেলিয়া তাদের মাঠে খুব শক্তিশালী। আমরা ভাবছিলাম কিছু চাপের মুহূর্তে সুযোগ নিতে পারব, কিন্তু তা করতে পারিনি। ব্যাটে আমরা যথেষ্ট রান করিনি, বল হাতে আমরা পর্যাপ্ত চাপ তৈরি করতে পারিনি, এবং ফিল্ডে আমরা সুযোগ হারিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে কোচ হিসেবে দায়িত্ব এড়ানো যায় না। হয়তো প্রথম টেস্টের আগে আরও প্রস্তুতি দরকার ছিল, আবার দ্বিতীয় টেস্টের আগে কম প্রস্তুতিই ভালো হতো—পেছনে তাকিয়ে এমনটাই মনে হচ্ছে। এই সফরে দর্শকদের প্রত্যাশা এবং মিডিয়ার চাপে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। খেলোয়াড়রা আনন্দ নিয়ে খেলতে পারেনি, বরং প্রমাণ করার তাগিদে নিজেদের স্বাভাবিক দক্ষতাই হারিয়ে ফেলেছিল।’
দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন ম্যাককালাম। জো রুট ও বেন স্টোকস ছাড়া বাকি ক্রিকেটারদের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। মার্ক উডের চোটে সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ায় বোলিং আক্রমণের অভিজ্ঞতাও আরও কমে যায়। তবু সামনে এখনও সুযোগ দেখছেন ইংল্যান্ড কোচ। বক্সিং ডে টেস্টসহ বাকি দুই ম্যাচে সম্মান বাঁচানোর লড়াই রয়েছে। ম্যাককালামের মতে, যদি দল চাপ ঝেড়ে ফেলে মুক্তভাবে খেলতে পারে, তাহলে কিছু অর্জন এখনও সম্ভব।
দুই যুগ আগের স্মৃতি ফিরিয়ে ১১ দিনে অ্যাশেজ জিতল অস্ট্রেলিয়া
জন্মদিনে রোনালদোর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁলেন এমবাপ্পে