বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেওয়ার পর আত্মহত্যা করেছেন। নিহত শিক্ষার্থীর শুভ বৈরাগী বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী গ্রামে নিজ বাড়িতে শুভর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
ববির বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শারমিন আক্তার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুভ বৈরাগী বৌলতলী গ্রামের প্রয়াত সুখলাল বৈরাগী ও শেফালী বৈরাগী দম্পতির ছেলে। শৈশবেই বাবা-মাকে হারানো শুভ তার বোন ও ভগ্নিপতির আশ্রয়ে বড় হয়েছেন। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে তিনি তার আত্মহত্যার পেছনে প্রেমিকার পরিবারের নির্যাতন ও অপমানকে দায়ী করে গেছেন।
পোস্টে অভিযোগ করে শুভ লিখেছেন,‘তারা সত্যকে আড়াল করে আমাকে মিথ্যা চোর অপবাদ দিয়ে সকলের কাছে দোষী করেছে। এতে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না। তারা আমাকে জানে মারার চেয়েও বেশি মেরে ফেলেছে।
আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় প্রেমিকার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, টাকা আজ নেই কিন্তু কাল হতে পারতো। কিন্তু এই অপমানের পর বেঁচে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তার মৃত্যুর জন্য তিনি প্রেমিকা, তার বাবা, কাকা ও জেঠুকে সরাসরি দায়ী করে গেছেন।
এদিকে শুভর অকাল মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
