দৈনন্দিন জীবনে ইবাদতের পাশাপাশি সাংসারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। তাই নামাজের সময় অনেক সময় ঘুম পেয়ে বসে। কারো কারো চোখে নামাজের সময় ঝিমুনি আসে, কেউ বা ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়েন। নামাজে আছেন নাকি এটা বেমালুম ভুলতে বসেন।
নামাজের সময় যদি ক্লান্তির কারণে কারো চোখে এতোটা ঘুম চলে আসে যে তিনি নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। যেমন, কেউ নামাজে এতোটা ঘুমিয়ে পড়লেন যে বৈঠকে বসে ছিলেন কিন্তু ঘুমের প্রাবল্যের কারণে পড়ে গেলেন। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলেন না, তাহলে তার নামাজ ভেঙে যাবে।
ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে নামাজ আদায় করা ঠিক নয়। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমের ভাব নিয়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করে বলেন,
إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَلاَةِ فَلْيَنَمْ، حَتَى يَعْلَمَ مَا يَقْرَأُ.
তোমাদের কারো যখন নামাজে ঘুম আসে তখন সে যেন (নামাজ ছেড়ে) এতটুকু ঘুমিয়ে নেয় যে সে বুঝতে পারে সে কী পড়ছে। (সহিহ বুখারি: ২১৩)
আর যদি নামাজে শুধু ঝিমুনি আসে তাহলে এর কারণে নামাজ ভাঙবে না।
মহানবী সা. ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। নামাজসহ ইবাদত বন্দেগিতে যখন ক্লান্তি চলে আসবে তখন বিশ্রাম নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী সা.।
হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. একবার মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলেন, একটি রশি দুটো খুঁটির মাঝখানে বাঁধা আছে।
তিনি বললেন, ‘এ রশিটা কিসের জন্য?’ সাহাবিরা বললেন, ‘এটা জয়নবের রশি।’ তিনি যখন নামাজ পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এ রশিতে ঝুলে থাকেন।’ রাসূল সা. বললেন, ‘এটা খুলে ফেল। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত উদ্যম সহকারে নামাজ পড়া। আর যখন ক্লান্ত হয়ে যাবে তখন ঘুমিয়ে পড়বে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
এ হাদিসের মাধ্যমে আমরা যে শিক্ষা লাভ করি তাহলো
এ হাদিসে মধ্যমপন্থা অবলম্বন না করে নিজের প্রতি কঠোরতা আরোপ করার একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন হজরত জয়নব রা. নিজের নিদ্রাভাব দূর করার জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন; যেন তিনি বেশি করে নামাজ আদায়ে সক্ষম হন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সা.তার এ কাজকে অনুমোদন দেননি। রাসূল সা. তার উম্মতকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন ও কঠোরতা পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
যখন কারো ঘুম আসে তখন ঘুম যাওয়াটা হলো তার কর্তব্য। নফল নামাজের জন্য নিজেকে এতোটা কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
অনেককে দেখা যায় নামাজের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লেও নামাজ অব্যাহত রাখেন। এরূপ করা ঠিক নয়। ঘুমের ঘোরে নামাজ, প্রার্থনা বা ইবাদাত-বন্দেগি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এছাড়া মনে রাখতে হবে, যেসব কারণে নামাজ ভেঙে যায় তার অন্যতম একটি হলো ঘুম। নামাজে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে নামাজ ভেঙে যায়।
(আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭; বাদায়েউস সনায়ে ১/৫৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৩)
