গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ এএম

ডা. রাহেলা খাতুন

কনসালট্যান্ট, গাইনি অ্যান্ড অবস

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মহাখালী, ঢাকা।

নানা ধরনের ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেকের ধারণা ক্যানসার হলে বাঁচা যায় না। চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার ধরা পড়লে রক্ষা করা সম্ভব। একজন নারীর প্রজননের অঙ্গ হলো জরায়ু, যাকে গর্ভকেও বলা হয়। নারীর প্রজনন অঙ্গ হলো: ডিম্বাশয়, যোনি, জরায়ুমুখ, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং জরায়ু। এই প্রজনন অঙ্গগুলোর একটিতে অস্বাভাবিক কোষের দ্রুত বৃদ্ধি এবং বিস্তারের ফলে গাইনোকোলজিক ক্যানসার হয়।

মেয়েদের প্রজনের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ ধরনের ক্যানসার রয়েছে। যাকে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসারও বলা হয়। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসার মূলত নারীর প্রজনন অঙ্গে বিকশিত ক্যানসার বা টিউমার কোষকে বোঝায়। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যানসার হলো ওভারিয়ান, সার্ভিকাল, জরায়ু, ভ্যাজাইনাল এবং ভালভাল।

লক্ষণ : ওভারিয়ান, সার্ভিকাল, জরায়ু, ভ্যাজাইনাল এবং ভালভাল এই ৫ ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ একই ধরনের। ভালভাল ক্যানসার ছাড়া, অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল রক্তপাত বা স্রাব  হতে পারে, পেলভিক পেইন, মাঝেমাঝেই পিঠে প্রচন্ড যন্ত্রণা হয়। এ ছাড়া যোনিতে চুলকানি, জ্বালা, ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। আবার অল্পতেই পেট ভরে যায়। কারও আবার খেতে অসুবিধা হয়। পেট ফাঁপা বা ভার ভার লাগে। অনেক সময় পেটে বা ব্যাক পেইন হয়। এছাড়া অন্য উপসর্গগুলো হলো প্রস্রাবে রক্ত, যৌনাঙ্গে বা তার আশপাশে পিন্ড বা ব্যথা এবং যৌনমিলনের সময় বা পরে ব্যথা বোধ করা। রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

এছাড়াও, ফুসকুড়ি, কোষ্ঠকাঠিন্য ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ। তবে এই লক্ষণ সব রোগীর ক্ষেত্রে থাকে না। ভালভাল ক্যানসারে ক্ষত-সহ চুলকানি এবং ব্যথা সৃষ্টি করে। ক্ষতের বায়োপসি করে ক্যানসার শনাক্ত করা হয়। এছাড়া পরিবর্তিত মলত্যাগ, অবসাদ লাগা এবং আশঙ্কাজনকভাবে ওজন কমাও লক্ষণ।

চিকিৎসা : সব ধরনের ক্যানসারের সাধারণত চারটি স্টেজ থাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্টেজে ক্যানসার ধরা পরলে যত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু হবে তত তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়া যায়। চিকিৎসকরা সাধারণত সিডিসি ঐচঠ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা সার্ভিকাল, ভ্যাজাইনাল এবং ভালভাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস একটি সাধারণ যৌন সংক্রমণ। ১১ থেকে ১২ বছর বয়সীদের এই ভ্যাকসিনটি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে ৯ বছর বয়স থেকেই এই ভ্যাকসিন নেওয়া যেতে পারে। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস এইচপিভি নামে পরিচিত। সার্ভিকাল ক্যানসার এবং ভালভাল ক্যানসার প্রায়ই এইচপিভির সঙ্গে যুক্ত হয়। এটি সাধারণ যৌন সংক্রামিত ভাইরাল সংক্রমণ। ভ্যাকসিন নেওয়া না থাকলে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীরোগ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ডিম্বাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলাদের রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। যে মহিলার মা, মেয়ে বা বোনের ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান টিউব বা প্রাথমিক পেরিটোনিয়াল ক্যানসার ছিল তাদের মিউটেশনের জন্য জেনেটিক টেস্ট করা উচিত ইজঈঅ১ এবং ইজঈঅ২ জিন (এই জিনগুলোর পরিবর্তন ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের জন্য দায়ী।)

গাইনোকোলজি চিকিৎসার মধ্যে সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকে। স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলারা প্রায়শই একাধিক ধরনের চিকিৎসা পান। সার্জারির প্রয়োজন হলে ডাক্তাররা অপারেশনে ক্যানসারের টিস্যু অপসারণ করেন। আর কেমোথেরাপি ক্যানসার সঙ্কুচিত বা মেরে ফেলার জন্য বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত