ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হামলার সময় পুরো ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসন ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, শহরটি ব্যাপক হামলার মুখে পড়েছে। দনিপ্রো নদীর দুই তীরের একাধিক এলাকায় হামলায় অনাবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৃথক এক পোস্টে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায়, এতে শহরের কিছু এলাকায় পানি ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এদিকে রুশ সীমান্তের কাছের ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। শহরের মেয়র ইগর তেরেখভ জানান, ইরানে তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে চালানো হামলায় আবাসিক ভবন, বাস্তুচ্যুতদের একটি ছাত্রাবাস, একটি হাসপাতাল ও একটি প্রসূতি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আলোচনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। শুক্রবার প্রথম দিনের বৈঠক শেষে শনিবারও আলোচনা চলার কথা রয়েছে। তবে আলোচনার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিরোধই এখন শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা। অন্যদিকে মস্কো দাবি করছে, ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।