ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার মিরপুর-৬, ঢাকা
পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে না পারার জন্য শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না। ঘন ঘন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়। দেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ কৃমিজনিত সংক্রমণ। পুষ্টির অভাব দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দেশব্যাপী নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালন করা হয়ে থাকে। এ দিনে ৫-১২ বছর বয়সের সব শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিক্ষকদের সহায়তায় কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ান।
কৃমি যেভাবে ক্ষতি করে
পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করা
কৃমির প্রধান কাজ। শিশুর জীবন বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করতে পারে। পেটের সমস্যা নিয়েই বেশি অস্থির হতে দেখা যায় বাবা-মাদের। শিশু খেতে চায় না, শিশুর বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়ার মূল কারণ কৃমির সমস্যা। এছাড়াও মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি, সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া, চুলকানির কারণে শিশুর কান্নাকাটি এবং ঘুমাতে অসুবিধা, ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব শিশুরা অভিযোগ করে থাকে। বিভিন্ন রকম অ্যালার্জিজনিত সমস্যা যেমন চামড়া লাল হয়ে চুলকানি হওয়া, ঠা-া থেকে কাশি, পরে শ্বাসকষ্ট হতে দেখা যায়। কিছু কৃমি শরীরের বিশেষ অংশ যেমন পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়, অ্যাপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে পেটে তীব্র ব্যথা এমনকি জন্ডিসের কারণ হতে পারে। আবার দলে দলে এরা মরে গিয়ে খাদ্যনালিতে আটকে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কৃমির কারণে শরীরে কিছু ভিটামিন যেমন ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন বি-১২ পোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ভিটামিন ‘এ’ অভাবজনিত বিভিন্ন অসুবিধা প্রকটভাবে দেখা যায়। আপনার শিশুকে কৃমিমুক্ত রাখুন। কিছু বিষয়ের প্রতি আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
খাওয়ার আগে শাক-সবজি ও ফলমূল ভালো করে ধুয়ে নিন।
রান্নাঘরের থালা-বাসন ও পাতিল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
খাবার সবসময়ই ঢেকে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
খোলা ও বাসি খাবার শিশুদের খাওয়াবেন না।
শিশুর হাত ও পায়ের নখ কেটে রাখতে হবে।
পায়খানায় যাওয়ার সময় শিশুকে স্যান্ডেল পরানোর অভ্যাস করাতে হবে।
পায়খানা থেকে আসার পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
যেখানে-সেখানে শিশুর মলমূত্র ফেলে রাখা যাবে না।
চারদিক ঘেরা এবং পানি বের হয় না এমন স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।
গরুর মাংস ভালো করে সেদ্ধ করে শিশুকে খেতে দিন।
গৃহপালিত কুকুর, বিড়ালকে কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে।
প্রত্যেক শিশুকে প্রতি ৪ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমিনাশক বড়ি খাওয়াতে হবে।
এই স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো আমরা যেন সবাই মেনে চলি। শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব দিয়ে বসে না থেকে দেশের সব মানুষকে কৃমি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
