হাম প্রতিকার ও প্রতিরোধ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ এএম

ডা. এম ইয়াছিন আলী

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক ও গবেষক

চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল

হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এই রোগটি গবধংষবং ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

হাম কী?

হাম হলো একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ¦র, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। সাধারণত সংক্রমণের ৭-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে মুখম-লে ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং পরে তা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কীভাবে ছড়ায়?

হাম অত্যন্ত দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের সুস্থ ব্যক্তি তা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখের নিঃসরণ বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশের কয়েক দিন আগে থেকেই সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম।

প্রতিকার ও চিকিৎসা

হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেমনজ্বা জ¦র নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল ব্যবহার

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ (পানি, স্যালাইন, স্যুপ)

চোখ ও ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজনে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া, যা জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিরোধে করণীয়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধের টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ ছাড়াজ্বা

আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা (আইসোলেশন) কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা নিয়মিত হাত ধোয়া জনসমাগম এড়িয়ে চলা ঘরের বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা।

হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলার কারণে এটি এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে। সঠিক সময়ে টিকাদান, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে হামমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত