ডা. এম. এম রহমান
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
মাতৃভূমি হার্ট কেয়ার লিমিটেড
তাপ-স্ট্রোক সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয়; তাই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। জানতে বুঝতে পারলে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। তাহলে সহজেই তাপ-স্ট্রোকের ক্ষতি থেকে আমরা রক্ষা পাব। যদি কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত গরমে ঘেমে যান, তখন তার শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে সে ক্লান্ত, দুর্বল এবং মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভব করবে। এই অবস্থাকে ‘তাপ নিঃশেষণ’ (Heat stroke) বলে।
এ অবস্থায় যদি শরীর তার তাপমাত্রা সঠিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে এবং তাপমাত্রা মারাত্মক বেশি উঠে যায়। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘তাপ-স্ট্রোক’(Temperature)। কেউ কেউ এ অবস্থাকে ‘সর্দিগর্মি’ও বলে থাকেন। সাধারণত দীর্ঘক্ষণ উষ্ণ আবহাওয়ায় কাজ করার সময়, ব্যায়াম করার সময় কিংবা রৌদ্রে হাঁটাহাঁটি করার সময় তাপ-স্ট্রোক ঘটে। এমন কি উষ্ণ পরিবেশে বসা অবস্থায়ও তা হতে পারে। যদি শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তার বেশি হয়। তখন সম্ভাব্য জীবন হুমকি আশঙ্কা রয়েছে।
লক্ষণ
প্রধানত শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা : তাপ (Temperature)
মানসিক অবস্থার পরিবর্তন : উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে; ভারসাম্যতা (Balance), বিভ্রান্তি, পাকড়, প্রলাপ (Speech), কথার অস্পষ্টতা, বিরক্তি, এমনকি অচেতন।
ঘামের অবস্থা : শুষ্ক গরম, ঠান্ডা শীতল, যা চোখে-মুখে (Eyes-Face) দেখা যায়।
বমি বমি ভাব।
ধকধকানি মাথাব্যথা।
চামড়ার রং লাল।
দ্রুত অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস।
হৃদ-স্পন্দন বেড়ে যাবে।
বাহুতে ঝিন ঝিন করা।
যা করবেন
উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত নয়।
আর্দ্রতাপূর্ণ উষ্ণতায় দীর্ঘ সময় থাকা।
কারা ঝুঁকিতে থাকবেন
উষ্ণ আবহাওয়া
কাজের তীব্রতা
প্রান্তিক বয়স : শৈশব এবং বার্ধক্য
ওষুধ : এন্টিডিপ্রেসেন্টস, ডাইয়ুরেটিক্স, বিটাব্লকারস ইত্যাদি
আকস্মিক প্রকাশ sudden exposure)
অসুস্থতা : যেমনজ্বা হৃদরোগ, ফুসফুসের অসুস্থতা, অতি ওজন, খাদ্য-নালির
অসুস্থতা ইত্যাদি।
পূর্বে তাপ-স্ট্রোক একবার হয়ে
থাকলে আবার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রোগ নির্ণয়
রোগীর চেহারা পূর্বের ইতিহাস আলাপচারিতা রক্ত, প্রশ্রাব ও মাংশপেশির পরীক্ষা এক্স-রে ইত্যাদি।
চিকিৎসা
চিকিৎসার প্রধান উদ্দেশ্য হবে শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনা, যাতে অতিরিক্ত দেহের অভ্যন্তরীণ তাপের প্রভাবে শরীরের কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এর জন্য যা করতে হবেজ্বা সম্ভব হলে বরফ গলা ঠান্ডা পানিতে শরীর যতটা পারা যায় ভিজিয়ে রাখা। সম্ভব না হলে বরফ ঠান্ডা পানিতে তোয়ালে বা গামছা ভিজিয়ে তা দিয়ে শরীর মুছে ফেলা। চালিত এয়ারকুলারে শরীর ঠান্ডা করতে ব্যবহার করতে পারেন। শীতল কম্বল ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়, যা দিয়ে শরীর জড়িয়ে রাখবেন। শীতল কম্বলে কিছু বরফ টুকরা পেঁচিয়ে বিশেষ কিছু স্থানে যেমনজ্বা কুঁচকি, বগল, গলা, পিঠে ব্যবহার করতে পারেন। শরীরের তাপ না কমলে বেঞ্জোডায়াজিপাম (সেডিল) ৫ মিলিগ্রামের একটি টেবলেট খেতে পারেন।
প্রতিকার
ঠান্ডায় বা ছায়ায় থাকবেন এবং বেশি বেশি পানি পান করবেন। এ ছাড়া ঢিলেঢালা ফিটিং, হালকা কাপড় পরিধান করা। ঘামের মাধ্যমে যে পানি ও লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তা প্রতিস্থাপন করা। চেষ্টা করবেন সকাল ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রখর রোদে না বেরোনো। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করবেন। গরম দিনে ঢিলেঢালা হালকা পোশাক পরিধান করুন এবং তরল পদার্থ যেমনজ্বা পানি, শরবত, স্যুপ বেশি পান করুন।
