অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন
অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ, ল্যাবএইড হাসপাতাল, ঢাকা।
বিভিন্ন সময় নানা কারণে মাংসপেশিতে টান অনুভূত হয়। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে মাসল স্পাজম বা মাসল ক্র্যাম্প বা মাসল পুল। মাংসপেশিতে অতিরিক্ত টান পড়লে বা টিস্যু ছিঁড়ে গেলে সাধারণত এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। যখন মাংসপেশিতে টান পড়ে অথবা মাসল স্পাজম হয় তখন শরীরের ওই অংশে ভীষণ ব্যথা হয়। অনেক সময় স্থানটি ফুলে বা লাল হয়ে যায়। তখন নাড়াচাড়া করা যায় না।
কারণ : দেহের কোনো অংশের মাংসপেশি অতিরিক্ত নাড়াচাড়া হলে,
নিয়মবিহীন অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে মাংসপেশিতে টান পড়ে, হঠাৎ ভারী কোনো কিছু ওঠালে, পানি কম খেলে,
সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের অভাব দেখা দিলে। এ ছাড়া খেলোয়াড়, অ্যাথলেট এবং যারা বেশি সময় বসে কাজ করেন তাদের এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়।
করণীয় : খুব বেশি মাসল ক্র্যাম্প হলে সব ধরনের ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম কিছু সময় বন্ধ রাখুন, আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে কখনো ওজন নেওয়া যাবে না বা ভারী জিনিস বহন করা যাবে না, আঘাতের স্থানে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর ২০ মিনিটের জন্য আইস বা বরফের ব্যাগ দিয়ে রাখুন,
আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি একটি ব্যান্ডেজ দিয়ে মুড়িয়েও রাখতে পারেন, আঘাতের স্থানটি যতটা সম্ভব উঁচু স্থানে বা একটা বালিশের ওপর রাখার চেষ্টা করুন।
যা করবেন না : প্রথম কয়েক দিন ওই স্থানে গরম পানি বা গরম সেঁক দেওয়া যাবে না, আঘাতের স্থানটিতে কোনোভাবেই মালিশ করবেন না, ক্ষতস্থানটি স্বাভাবিকভাবে নাড়াচাড়া করতে না পারা পর্যন্ত স্বাভাবিক কাজ করবেন না।
চিকিৎসা : প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষতস্থানে তাৎক্ষণিক ব্যথা কমানোর জন্য অ্যানেস্থেটিক ক্রিম, জেল বা স্প্রে ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি সাপেক্ষে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এরপর বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে মাসল পুলের কারণ ও মাত্রা জানার চেষ্টা করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য অর্থাৎ সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক আছে কি না সেটা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে সমস্যা থাকলে রোগীকে বিশ্রামের পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যালাইন, কিশমিশ এবং মিনারেলস-জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া আলট্রাসাউন্ড ইমেজিং এক ধরনের শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে সারা শরীরের পেশি, রগ, লিগামেন্ট, স্নায়ু এবং জয়েন্টগুলোর ছবি ধারণ করে থাকে। এটি মূলত পেশি-সংক্রান্ত অন্যান্য যেকোনো সমস্যা নির্ণয় করতে ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় চিকিৎসকরা আক্রান্ত স্থান বিশেষভাবে ব্যান্ডেজ করে ক্র্যাচ নিয়ে চলার কথাও বলে থাকেন। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
প্রতিকার : প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা ব্যায়াম করুন। ঘরে বসে হালকা জগিং, সিট আপস, ইয়োগার মতো ব্যায়ামগুলো করতে পারেন। নিয়মিত দ্রুত হাঁটুন। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে পেশি গঠিত হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। একটু দ্রুত পায়ে হাঁটা ভালো। মিনিটে ১০০ কদম হাঁটাকে বলে ব্রিস্ক ওয়াকিং। পাশাপাশি দৌড়াতে বা জগিং করতে পারেন। তবে শরীরের জয়েন্টগুলোতে যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে জন্য বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক রাখুন।
খেয়াল রাখুন : ভুল ভঙ্গিতে দাঁড়ানো বা বসে কোনো কাজ করবেন না। অলস সময় কাটাবেন না, সব সময় সচল থাকার চেষ্টা করুন। চিনি, ভাত, আলু, মধু, রুটি অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেড-জাতীয় খাবার পরিমিত খাবেন। একেবারে না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না। কোমলপানীয় এবং চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
