কুমিল্লার একটি শ্রেণিকক্ষে চলছিল নিয়মিত পাঠদান। সপ্তম শ্রেণির বাংলা ক্লাস—শিক্ষিকা বোঝাচ্ছেন, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। ঠিক সেই সময় নীরবে দরজায় এসে দাঁড়ান এক অচেনা অতিথি। অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকে তিনি সরাসরি গিয়ে বসেন শিক্ষার্থীদের পাশের বেঞ্চে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়, তিনি আর কেউ নন—মনিরুল হক চৌধুরী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা সদর উপজেলার দিদার মডেল হাইস্কুলে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনে অংশ নিতে গিয়ে স্কুলটি পরিদর্শন করেন তিনি। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই হঠাৎ ঢুকে পড়েন একটি চলমান ক্লাসে।
শ্রেণিকক্ষে ঢুকে কোনো বিশেষ আয়োজন বা আলাদা আসনের দিকে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেই বসে পড়েন তিনি। শিক্ষিকাকে বলেন, যেন স্বাভাবিকভাবেই ক্লাস চালিয়ে যান। তার উপস্থিতিতে ক্লাসে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ—কৌতূহল, বিস্ময় আর উৎসাহে ভরে ওঠে শিক্ষার্থীদের মন।
প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা ক্লাসে তিনি ছিলেন একেবারেই নীরব ও মনোযোগী। পাঠের এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর কাছে কাজী নজরুল ইসলাম–এর ‘কুলি-মজুর’ কবিতার আবৃত্তি শোনেন। আবৃত্তি শেষে সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে তার মুখে।
ক্লাস শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে আসা, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্চনা দেবনাথ বলেন, এমন অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এতে তারা যেমন উৎসাহ পাবে, তেমনি শিক্ষকরাও আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে ক্লাস করাটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শিক্ষা যদি আনন্দময় হয়, তাহলে তারা পড়াশোনায় আগ্রহী হবে, স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও কমবে।
তিনি আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষ শিক্ষক অপরিহার্য।
