তাপপ্রবাহে ক্লান্তি নয়, থাকুন কর্মক্ষম

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ এএম

সাইমা আক্তার সুইটি
পুষ্টিবিদ

তীব্র ভ্যাপসা গরমের এই সময়টাতে শরীরে ‘হিট স্ট্রেস’ তৈরি হয়ে পানিশূন্যতা, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, ক্লান্তি এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকও হয়ে পড়ে নিস্তেজ ও সংবেদনশীল। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক হাইড্রেশন এই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

গরমে শরীর কেন দুর্বল হয়

তীব্র গরমে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ঘাম সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় শুধু পানি নয়, সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও হারিয়ে যায়। ফলে

* শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। * দুর্বলতা ও ক্লান্তি বেড়ে যায়।* মাথা ঘোরা ও মনোযোগ কমে। * ত্বক নিস্তেজ ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শরীর ভেতর থেকে ভারসাম্য হারাতে শুরু করে।

খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর উপায় নয়। এটি আমাদের শরীরের জ্বালানি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষমতার মূল ভিত্তি। বিশেষ করে গরমের সময়ে সঠিক খাবার শরীরকে ঠা-া রাখে, পানিশূন্যতা প্রতিরোধ এবং শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এ সময় খাবারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সুস্থ থাকতে : গরমে সুস্থ থাকতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে

 সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন।  দিন শুরুতে  শরীরের  শক্তি জোগাবে, দুপুরে ভারসাম্যপূর্ণ খাবার শরীরের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এবং রাতে হালকা খাবার গ্রহণ শরীরকে বিশ্রাম ও ভালো ঘুম নিশ্চিত করে

সঠিক হাইড্রেশন :  দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন।  ডাবের পানি, লেবুর শরবত (অল্প লবণ ও চিনিসহ) ও ঘোল গ্রহণ করুন। 

 প্রতি ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা পরপর অল্প অল্প করে পানি পান করুন। এতে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় থাকে গরমে সবচেয়ে উপযোগী খাবার :  তরমুজ, শসা, পেঁপে শরীর ঠা-া ও হাইড্রেটেড রাখে,

 লাউ, ঝিঙে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর,  টক দই হজম ও ত্বকের জন্য উপকারী।

 পানিসমৃদ্ধ খাবারই গরমে সবচেয়ে ভালো সঙ্গী। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

 গরমে ত্বকের সমস্যা বাড়ার প্রধান কারণ পানিশূন্যতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।  পর্যাপ্ত পানি ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে,

যেসব খাবার ক্ষতি বাড়ায় :  ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড  কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত চিনি

বেশি চা-কফি। এগুলো শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে ও ত্বকের ক্ষতি করে।

সতর্কতা : দুপুর ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলুন, বাইরে গেলে সবসময় পানি সঙ্গে রাখুন, অতিরিক্ত ঘাম বা মাথা ঘোরা হলে দ্রুত বিশ্রাম নিন, বাসি ও বাইরে কেটে রাখা ফলমুল খাবার এড়িয়ে চলুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত