টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কি তবে এখন শুধুই ব্যাটারদের খেলা? আজ দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তা দেখে তেমনটাই মনে হতে পারে। লোকেশ রাহুলের রেকর্ড গড়া ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস তুলেছিল ২৬৪ রান। কিন্তু সেই রানকেও মামুলি বানিয়ে দিল পাঞ্জাব কিংস। ৭ বল হাতে রেখেই ২৬৫ রান তুলে ৬ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল তারা, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া।
আগের রেকর্ডটিও ছিল পাঞ্জাবের। ২০২৪ সালে কলকাতার বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে সফল হয়েছিল। এর আগের বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫৯ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাঞ্জাবের অতিমানবীয় ব্যাটিং :২৬৫ রানের পাহাড় টপকাতে নেমে শুরু থেকেই দিল্লি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান পাঞ্জাবের দুই ওপেনার প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্য। পাওয়ারপ্লেতেই তারা রেকর্ড ১১৬ রান তুলে ফেলে। প্রভসিমরান মাত্র ২৬ বলে ৭৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন (৯ চার, ৫ ছক্কা)। মুকেশ কুমারের এক ওভারে তিনি টানা ৬টি চার মেরে স্টেডিয়ামে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন। প্রিয়াংশ আর্যও খেলেন ১৭ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
মাঝপথে কুলদীপ যাদব দুটি উইকেট নিয়ে দিল্লিকে ফেরানোর চেষ্টা করলেও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ছিলেন অবিচল। ৩৬ বলে ৭১* রানের এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ দিকে শশাঙ্ক সিং (১০ বলে ১৯*) এবং নেহাল ওয়াধেরার (২৫) কার্যকর অবদানে ১৮.৫ ওভারেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব।
এনগিডির দুর্ঘটনা ও ট্র্যাজেডি : পাঞ্জাবের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ফিল্ডিং করার সময় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার লুঙ্গি এনগিডি প্রিয়াংশ আর্যর একটি ক্যাচ ধরতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথায় মারাত্মক চোট পান। মাঠে দীর্ঘক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে থাকার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। দিল্লির হয়ে এবারের মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা এই বোলারের অনুপস্থিতি ম্যাচের ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলে। তার জায়গায় কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে নামেন স্পিনার বিপ্রজ নিগম।
রাহুলের আক্ষেপের ১৫২ : এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দিল্লির হয়ে ইতিহাসের প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইপিএলে ১৫০ রানের কোটা স্পর্শ করেন লোকেশ রাহুল। ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংসে তিনি ১৬টি চার ও ৯টি ছক্কা হাঁকান। দ্বিতীয় উইকেটে নিতিশ রানার (৯১) সঙ্গে তার ২২০ রানের জুটিতে ভর করে দিল্লি ২৬৪/২ রানের বিশাল
সংগ্রহ পেয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত এমন অতিমানবীয় কীর্তিও মøান হয়ে গেল পাঞ্জাবের অবিশ্বাস্য এই রান তাড়ার রেকর্ডে।
