বিদ্যুৎহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তীব্র গরমে দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তীব্র দাবদাহের কারণে এক শিক্ষকসহ ৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি এলাকায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের শিকার হলে একটি ভাড়া জায়গায় অস্থায়ী টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হলে ভাড়া জায়গাটি ছেড়ে বিদ্যালয়ের পূর্বের স্থানে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে নতুন স্থানে আর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে গত কয়েক বছরে ওই এলাকায় হাজারো ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিলীন হয়ে যায়। 
কয়েকদিন ধরে টানা দাবদাহ ও বিদ্যালয়ের পাশে গাছের ছায়া না থাকায় গতকাল শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার। এরপর পরই হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃতীয় শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী ইলমা, মাসুদ, চতুর্থ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী রোমান, মারিয়া ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার। হঠাৎ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যালয়জুড়ে। পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে অসুস্থদের মাথায় পানি ঢেলে ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পাখার ব্যবস্থা রাখার দাবি অভিভাবকদের।  

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফা বলেন, গরমের দিনে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। সূর্যের তাপে টিনের চালা গরম হয়ে আমাদের ক্লাস করতে খারাপ লাগে। আমি আজ মাথা গরমের কারণে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। পরে আমার বন্ধুরা মিলে আমার মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ করেছে। যতদিন বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফ্যানের ব্যবস্থা না করা হবে এই গরমকালে আমি আর বিদ্যালয়ে আসবো না।

চতুর্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের কারেন্ট নাই। আমরা শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করি। গতকাল দুপুরে টিফিনের পর আমাদের আরিফা ম্যাডাম, একজন বড় আপু ও কয়েকজন বন্ধুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি, কখন না আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়ে কারেন্ট ও ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানাই। 

সেন্টু মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, কয়েকবছর ধরে আমাদের বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। একারণে গরমকাল এলে আমাদের বাচ্চারা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা এভাবে আমাদের বাচ্চাদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারিনা। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় বিদ্যুৎ সংযোগ চাই। 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জামিলা খাতুন বলেন, নদীতে বিলিনের পরে আমরা যখন ভাড়া জায়গায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়েছিলাম তখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার ছিলো। যখন আবার বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয় আমাদের পূর্বের বিদ্যালয়ের জায়গাটিতে সেমিপাকা বিদ্যালয় ভবন চালু করা হয়। যখন আমরা সেখানে চলে আসি বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে মিটার খুলে নেওয়া হয়। আমরা যখন বিদ্যালয়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করি বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এখন অবধি নতুন করে আর সংযোগ দেয়নি। এখন গরমে আমাদের বাচ্চারা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। 

জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, আমি একবছর ধরে এখানে কর্মরত রয়েছি। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ আমার কাছে আসেনি। কালকে সকালে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে আমার কাছে পাঠিয়ে দিলে তাদের কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিবো। 

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগে একটি পোল (খুঁটি)  বিনামূল্যে দেওয়া হয়। বাকি পোলের জন্য দাম দিতে হয়। তারা আসলে কথা বলে কয়টি পোল লাগবে এবং কতো খরচ হবে জানিয়ে দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জাজিরা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদী ভাঙ্গন এলাকায় অবস্থিত। একটি অস্থায়ী জায়গায় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এ ব্যাপারে শীঘ্রই একটি ব্যবস্থা নিবেন। আজকে তীব্র গরমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার খবর বিদ্যালয় থেকে জানতে পেরেছি। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমরা খোঁজখবর রাখছি। 

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদুল ইসলাম বলেন, আমার আসলে বিষয়টি জানা নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি আমাদের কাছে আবেদন নিয়ে আসে সেক্ষেত্রে আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিবো। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত