পিঁপড়ায় মানবজাতির জীবন দর্শন

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ এএম

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম প্রাণীদের একটি পিঁপড়া। এই প্রাণীর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টির বিস্ময়কর হেকমত এবং জীবনের গভীর দর্শন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এই ছোট্ট প্রাণীটির নাম উল্লেখ করে আমাদের এক গভীর চিন্তার খোরাক দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ক্ষুদ্র এই প্রাণীর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন সুলাইমান (আ.)-এর বিশাল সৈন্যবাহিনী অগ্রসর হচ্ছিল। ঠিক তখন একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়া তার সঙ্গীদের সতর্ক করে বলেছিল, ‘হে পিঁপড়ার দল, তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো, সুলাইমান ও তার বাহিনী তোমাদেরকে যেন অজ্ঞাতসারে পিষ্ট না করে।’ (সুরা নামল ১৮)

এই ছোট্ট ঘটনাটি পিঁপড়ার সচেতনতা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের এক অসাধারণ উদাহরণ। এই আয়াত আমাদের শেখায় দূরদর্শিতা। একটি ক্ষুদ্র প্রাণীও ভবিষ্যৎ বিপদ বুঝে তার সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, তবে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে মানুষের বোধশক্তি কতটা শানিত হওয়া উচিত? আমরা অনেক সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি বা ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি আগে থেকে বুঝতে পারি না। পিঁপড়ার এই সতর্কতা মানুষের জন্য এক গভীর শিক্ষা, যা ছাড়া জীবন নিরাপদ হয় না।

পিঁপড়ার জীবন শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সংগঠিত। পিঁপড়া তার সঙ্গীদের জন্য চিন্তা করে। এটি নিঃস্বার্থতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয়। তাদের একতাবদ্ধ চলাফেরা এবং একে অপরের বোঝা ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য আমাদের একতার মহিমা শেখায়। এই সমন্বিত জীবনধারা আমাদের শেখায়, সমাজে একতা ও সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ । একজন প্রকৃত সফল মানুষ সেই, যে অন্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়েও ভাবতে পারে। একজন মানুষ একা সবকিছু করতে পারে না, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের পথ তৈরি করে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত