বিশ্বকাপের আঙিনায় দক্ষিণ কোরিয়া মানেই এশিয়ার পাওয়ার হাউজ এবং হার না মানা লড়াকু মানসিকতার এক গল্প। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ। নিজেদের মাটিতে আয়োজিত সেই আসরে বিশ্বকে চমকে দিয়ে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ইতালি ও স্পেনের মতো পরাশক্তিদের বিদায় করে চতুর্থ স্থান অর্জন করে তারা, যা এখন পর্যন্ত যেকোনো এশীয় দেশের জন্য সেরা সাফল্য।
এর ঠিক ২০ বছর পর, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে আবারও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে দক্ষিণ কোরিয়া। পর্তুগালের মতো দলকে হারিয়ে তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল। যদিও শেষ ১৬-তে ব্রাজিলের কাছে হেরে তাদের যাত্রা থামে, তবে তাদের লড়াকু ফুটবল ‘ফুটবল বিশ্বের’ প্রশংসা কুড়ায়।
দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিশ্ব ফুটবলের এক নিয়মিত মুখ। ১৯৮৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ১১ বার তারা মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ২০০২ সালের সেই গৌরবকে আবারও ফিরিয়ে আনাই এখন দলটির মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞ সন হিউং-মিন এবং বায়ার্ন মিউনিখের কিম মিন-জায়ের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গড়া এই দলটি এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। কিংবদন্তি খেলোয়াড় হং মিয়ং-বো কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলে এক ধরনের ভারসাম্য এসেছে। রক্ষণভাগকে শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করাই এখন তাদের মূল শক্তি।
হং মিয়ং-বোর দর্শন
৫৫ বছর বয়সী হং মিয়ং-বো দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন। কোচ হিসেবে তিনি শৃঙ্খলার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তিনি সাধারণত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজাতে পছন্দ করেন, যেখানে মাঝমাঠ ও রক্ষণের সেতুবন্ধন থাকে মজবুত। তার মতে, ‘ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় ঐক্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি।’
মূল ভরসা সন হিউং ও কিম মিন
৩৩ বছর বয়সেও দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণভাগের মূল নিউক্লিয়াস সন হিউং-মিন। ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে তিনি আরও একবার নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন। তবে দলের রক্ষণভাগের মূল অতন্দ্র প্রহরী বায়ার্ন মিউনিখের কিম মিন-জায়ে। তার শারীরিক শক্তি এবং বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ডিফেন্ডিং যেকোনো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের জন্য ত্রাস। এছাড়া পিএসজি তারকা লি কাং-ইনের মাঝমাঠের সৃজনশীলতা দলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে।
