মুরাদনগরে চাহিদার তুলনায় বেশি কোরবানিযোগ্য পশু

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হয়ে গেছে কুরবানির পশুর হিসাব-নিকাশ। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মুরাদনগর উপজেলার খামারিরা। দম ফেলারও ফুরসত পাচ্ছেন না তারা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে।

খামার ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করেছেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে এবার এ অঞ্চলে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এবার চাহিদার চেয়ে বেশি কুরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তারা।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলা ২২টি ইউনিয়নের খামারে ২১ হাজার ৬৭৬টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এর মধ্যে গরু ১৫ হাজার ৬৭১টি, মহিষ ১৫৪টি, ছাগল ৫ হাজার ১৫৮টি, ভেড়া ৬৭৩টি অন্যান্য ২৯টি পালন হয়েছে। এবার পশুর চাহিদা ১৮ হাজার ৫১৮টি হলেও চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে জানা গেছে, অনেক খামারি ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশু লালন পালনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঈদে এসব বিক্রি করে লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা। এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। এসব পশুর স্থানীয় হাট ছাড়াও বিক্রির জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে চলে যায়। তবে গো-খামারি ও কৃষকদের এই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা এ নিয়ে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে।

খামারিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে। তাই গরু মোটাতাজাকরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবুও ভালো মূল্যে গরু বিক্রি করতে পারলে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন তারা। পাশাপাশি, ভারতীয় গরুর আমদানিকে কেন্দ্র করে রয়েছে তাদের বাড়তি উদ্বেগ। খামারিরা মনে করছেন, ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হলে দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়বে, যা তাদের জন্য লাভজনক হবে। 

তবে কয়েকজন খামারির সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে গরু লাম্পি চর্মরোগ ও ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হতো ছোট বাছুর। এবছর অনেক বড় গরু এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। চিকিৎসা করে ওইসব গরুগুলো সুস্থতা নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া রোগাক্রান্ত হয়ে যে সকল খামারে গরু মারা গেছে সেই খামারগুলো কিছুটা লোকশানে পড়বে বলে জানান তারা।

মুরাদনগর ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মেজবাহুল জান্নাত মিনি বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এলাকায় পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। মাংসের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালন বেড়েছে। রমজানের ঈদেও অনেক পশু বিক্রি হয়েছে। এবারও ভালো দাম পাবেন খামারিরা। বাড়ি বাড়িতে কৃষকরা গরু ছাগল বিক্রি জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মুরাদনগরের বড় হাটগুলোতে আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বড় ছোট গরু মহিষ বিক্রেতারা নিয়ে আসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, উপজেলায় পশু বিক্রির জন্য সাপ্তাহিক স্থায়ী ও অস্থায়ী ৪০টি হাট রয়েছে। অস্থায়ী হাট অনলাইনেও চলে বেচাকেনা। গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়েছে। ঈদের বাজারও তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত