মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি মৌমাছি। একে আরবিতে বলা হয় ‘নাহল’। কোরআনে ‘নাহল’ নামে একটি সুরা রয়েছে। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিয়েছেন, তুমি গৃহ নির্মাণ করো পাহাড়, বৃক্ষ এবং মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে। এরপর সব ধরনের ফল থেকে ভক্ষণ করো এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথগুলোতে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নাহল ৬৮-৬৯)
মৌমাছির শাসন ব্যবস্থা : জ্ঞান, তীক্ষè বুদ্ধি ও সুকৌশলের দিক দিয়ে মৌমাছি পতঙ্গের মধ্যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তাদের শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে তা অনুমান করা যায়। এই প্রাণীর জীবনব্যবস্থা মানুষের শাসননীতির সঙ্গে চমৎকার সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমগ্র আইনশৃঙ্খলা একটি বড় মৌমাছির হাতে থাকে এবং সেই হয় মৌমাছিদের শাসক। তার চমৎকার সংগঠন ও কর্মবণ্টনের ফলে গোটাব্যবস্থা বিশুদ্ধ সুশৃঙ্খলরূপে পরিচালিত হয়ে থাকে। তার অভাবনীয় ব্যবস্থা ও অলঙ্ঘনীয় আইন ও বিধিমালা দেখে মানুষের বুদ্ধি বিস্ময়ে অভিভূত হয়।
মৌমাছি তিন সপ্তাহ সময়ের মধ্যে ছয় থেকে বারো হাজার পর্যন্ত ডিম দেয়। দৈহিক গড়ন ও অঙ্গসৌষ্ঠবের দিক দিয়ে বড়টি অন্য মৌমাছিদের চেয়ে ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। মৌমাছি বাসা বানাতে বিভিন্ন উদ্ভিদের ওপর জমে থাকা সাদা গুঁড়া সংগ্রহ করে। আখের গায়ে এই সাদা গুঁড়া প্রচুর পরিমাণ বিদ্যমান থাকে। তারা বিভিন্ন প্রকার ফুল ও ফলের ওপর বসে রস চুষে। এই রস তাদের পেটে পৌঁছে মধুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। মধু হলো মৌমাছি ও তাদের সন্তানদের খাদ্য এবং এটি আমাদের সবার জন্য সুস্বাদু খাদ্যনির্যাস এবং নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র।
মৌমাছিদের এই বিভিন্ন দল অত্যন্ত তৎপরতা সহকারে নিজ কর্তব্য পালন এবং সম্রাজ্ঞীর প্রত্যেকটি আদেশ মনেপ্রাণে শিরোধার্য করে নেয়। যদি কোনো মৌমাছি আবর্জনার স্তূপে বসে যায়, তবে চাকের দারোয়ান তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং সম্রাজ্ঞীর আদেশে তাকে হত্যা করা হয়। তাদের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও কর্মকুশলতা দেখে মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। (আল-জাওয়াহির)
মৌমাছির মধুতে আরোগ্য : শামায়েলে তিরমিজির এক হাদিসে এসেছে, আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মধু খেতে খুব ভালোবাসতেন। কেননা মধু যেমন বলকারক খাদ্য এবং রসনার জন্য তৃপ্তিদায়ক, তেমনি রোগ-ব্যাধির জন্যও ফলদায়ক ব্যবস্থাপত্র। তারা সর্বপ্রকার ফুল থেকে বলকারক রস ও পবিত্র নির্যাস বের করে সুরক্ষিত গৃহে সঞ্চিত রাখে। কফজনিত রোগে সরাসরি এবং অন্যান্য রোগের উপাদানের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে মধু ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসকরা মাজুন তৈরি করতে গিয়ে বিশেষভাবে একে অন্তর্ভুক্ত করেন। এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, নিজেও নষ্ট হয় না এবং অন্যান্য বস্তুকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত নষ্ট হতে দেয় না। এ কারণেই হাজারো বছর ধরে চিকিৎসকরা একে এলকোহলের স্থলে ব্যবহার করে আসছেন। মধু বিরেচক এবং পেট থেকে দূষিত পদার্থ অপসারক।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
