স্পেন-পর্তুগাল দ্বৈরথ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ এএম

কলম্বিয়ার সঙ্গে গ্রুপের শেষ ম্যাচ জিততে না পারাতেই নির্ধারিত হয়েছিল নকআউটের কঠিন পথে যেতে হবে পর্তুগালকে। সেই পথের শুরুতে পড়েছিল বিশ্বকাপের এক বড় শক্তি ক্রোয়েশিয়া। শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা সেই ম্যাচ জিতেছে।

তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই; কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট স্পেন। বুড়ো রোনালদো ছেলের বয়সী লামিন ইয়ামালের সঙ্গে কেমন করেতা দেখার জন্য ৫ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের জয়টি ছিল চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ক্ল্যাসিক। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের দেখা পান, একই সঙ্গে নকআউট ম্যাচে গোল করা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

ম্যাচের আসল নাটক জমা ছিল অতিরিক্ত সময়ের জন্য। ৯৪ মিনিটে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে পর্তুগাল লিড নিলেও ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার জশকো গার্দিওল জালে বল পাঠালে স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগিজ শিবির। তবে দীর্ঘ ভিএআর রিভিউয়ের পর গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হলে উল্লাসে ফেটে পড়ে পর্তুগাল। ম্যাচ জয়ের পর এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা করেন রোনালদো। ঠিক এক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সতীর্থ দিওগো জোটার স্মৃতিতে ২১ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। আর দীর্ঘদিনের বন্ধু, সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদ্রিচকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ তিকিতাকার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রিয়ানরা। মিকেল ওয়ারজাবালের জোড়া গোল এবং পেড্রো পোরোর হেডে একচেটিয়া জয় পায় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও, ম্যাচ বাই ম্যাচ নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরোচ্ছে স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা প্রায় একটি নিখুঁত ম্যাচ খেলেছি। তবে প্রতিটি ম্যাচই এখন থেকে আরও জটিল হবে। এই দলের উন্নতির কোনো শেষ নেই।’

তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতা : দুই প্রজন্মের দ্বৈরথ

আগামী সপ্তাহের ‘ইবেরিয়ান ডার্বি’ শুধুমাত্র দুটি দেশের লড়াই নয়, একে দেখা হচ্ছে দুই ফুটবল প্রজন্মের মহাযুদ্ধ হিসেবে। একদিকে পর্তুগালকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী চিরসবুজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যার জন্য এটিই সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে স্পেনের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। যার গতি ও ড্রিবলিং ইতিমধ্যেই ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে।

ইয়ামালের কাঁধেই ভর করে স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। অস্ট্রিয়াকে হারানের ম্যাচের নায়ক ইয়ামাল বলেছেন, ‘আসল টুর্নামেন্ট তো মাত্র শুরু হলো; এখন কেউ আর বাড়ি ফিরতে চায় না। আমরা কোনো দলকে ভয় পাই না। আমরা স্পেন। আমাদের নিজেদের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে।’

স্পেন ও পর্তুগালের ফুটবলীয় দ্বৈরথের ইতিহাস বেশ পুরনো ও সমৃদ্ধ। ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, দুই দল এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৪১টি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। তবে এই লড়াইয়ের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। মজার ব্যাপার হলো, দুই দলের খেলা ২৯টি প্রীতি ম্যাচের পরিসংখ্যান একদম সমানে-সমান! প্রীতি ম্যাচে স্পেনের জয় ১২টিতে, পর্তুগালও জিতেছে ঠিক ১২টি ম্যাচে এবং বাকি ১২টি ম্যাচ ড্রতে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এই ২৯টি প্রীতি ম্যাচের বাইরে দুই প্রতিবেশী দেশ বড় বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বারবার মুখোমুখি হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ, উয়েফা নেশনস লিগ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউরো) মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে ২০১৮ সালের আসরে দুই দলের সেই ঐতিহাসিক ৩-৩ ড্রয়ের রোমাঞ্চকর স্মৃতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। তবে এবার আর ড্রয়ের কোনো সুযোগ নেই; নকআউটের এই মরণপণ লড়াইয়ে এক দলকে বিদায় নিতেই হবে। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বুড়ো রোনালদো নাকি তরুণ ইয়ামাল কার হাসি থাকে, তা দেখার জন্য ৫ জুলাইয়ের ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ফুটবল ভক্তদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত