১৯৩২ সাল। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পিয়ন জেলায় মানুষের এলাকায় এক সময় ইমু পাখির বিচরণ বেড়ে যায়। শীতে খাবার ও পানি কমে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় ‘সৈনিক পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে। যুদ্ধফেরত সৈন্যরা কৃষিকাজ শুরু করে। কিন্তু এলাকাগুলোতে হঠাৎ ঝড় হলো। চাষিরা বেড়ার বন্দোবস্ত করতে পারছিল না। ফলে পশ্চিমের প্রান্তিক এলাকাগুলো ছিল ২০,০০০ পাখির উন্মুক্ত খেলার মাঠ। পাখিগুলো কৃষকের ফসল খেত। বাধ্য হয়ে সৈন্যরা একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়, পার্থ শহরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ পিয়ার্সের কাছে। তারা ‘মেশিন গান’ দাবি করে। মন্ত্রী বন্দুক দিলেন। একই সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহায্য মঞ্জুর করলেন। তবে সিডনির ইমুর দ্রুতগতির জন্য বন্দুকের ব্যবহার কার্যকর হলো না। ১৯৩২ সালের নভেম্বরে যুদ্ধ শুরু। ইমু পাখিরা বন্দুকের রেঞ্জ থেকে দূরে থাকায়, তাদের পুরোপুরি মারার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হতাশা নিয়ে তারা ফেরত আসেন। পরের কয়েক দিন এভাবে যায়। পাখিরা পায়ের আওয়াজ পেলে, শত শত দলে ভাগ হয়ে যায়। এবার ইমুরা ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। চাষিরা আবার সাহায্যে চাইলেন। ১২ নভেম্বর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগ মঞ্জুর করে সেনা ও অস্ত্র সাহায্য। এরপর হত্যা করা হলো, প্রায় ৪০টি ইমু। এরপর ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০ ইমু মারা যায়। কিন্তু থামানো গেল না ইমুদের। বছরের পর বছর ধরে ইমুদের অত্যচার মেনে নেন চাষিরা। সেনাবাহিনী প্রায় ১০ বছর ইমুদের আটকে রাখতে পারেনি। চূড়ান্তভাবে যুদ্ধে জয়ী হয় ইমু পাখিরা।
পাখিদের যুদ্ধজয় মানুষের পরাজয়
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ এএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ এএম
পাখিদের যুদ্ধজয় মানুষের পরাজয়
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০