ছন্দ কৌশল ও শ্রেষ্ঠত্ব

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ এএম

ফুটবলের মাঠে স্পেন মানেই নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন পাসিংয়ের এক গোছানো রূপ। মেটলাইফের ফাইনালে লা রোহারা যখন মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ আর কৌশলের লড়াই ছাপিয়ে তা রূপ নেবে স্নায়ুযুদ্ধের এক চূড়ান্ত সীমায়। যেখানে জয়ী দলের জন্যই অপেক্ষা করছে অমরত্বের হাতছানি। এই শিরোপা লড়াইকে সামনে রেখে স্প্যানিশ ক্যাম্পের বর্তমান পরিবেশ যেন মাঠের উত্তাপকেও হার মানাচ্ছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে থেকে শুরু করে অধিনায়ক রদ্রি পর্যন্ত সবার লক্ষ্য এখন একটাই, ‘ইতিহাস রচনা করা।’ 

ফাইনালের আগে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, দুটি দলের ফুটবল দর্শনে দারুণ মিল রয়েছে। ফুয়েন্তে বলেন, ‘দুটি শীর্ষস্থানীয় দল মুখোমুখি হচ্ছে। আমাদের খেলার পদ্ধতি ও খেলোয়াড়দের দক্ষতায় অনেক মিল রয়েছে। আমার বিশ^াস এটি একটি দারুণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’ তবে আর্জেন্টিনার মতো একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকানো যে সহজ নয়, সেটিও তার কণ্ঠে স্পষ্ট। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের শক্তি ও গুণাবলী কাজে লাগিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করব। তবে আর্জেন্টিনা সত্যিই এক দুর্ধর্ষ দল, তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’ 

দলের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে থাকলেও কোচ তাকে বাড়তি চাপে ফেলতে নারাজ। বিশেষ করে মেসি ও ইয়ামালের তুলনা প্রসঙ্গে ফুয়েন্তে বলেন, ‘মেসি এক অনন্য প্রতিভা এবং তরুণ অ্যাথলেটদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। তবে লামিনকে লামিনই থাকতে দিতে হবে। তাকে সমর্থন করাই আমাদের কাজ, যাতে সে স্বাভাবিক থাকতে পারে।’

দলের অধিনায়ক রদ্রি পুরো বছর ধরে এই স্বপ্নের পেছনেই ছুটেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যালন ডি’অর জয়ের পরও বিশ্বকাপের মঞ্চই তার কাছে পরম পাওয়া। রদ্রি বলেন, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। আমরা ধাপে ধাপে পরিপক্বতা অর্জন করেছি, এখন সময় বিশ্বজয়ের। আমাদের শিরোপার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নামতে হবে।’ প্রতিপক্ষ মেসি প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘মেসি আমার চোখে সর্বকালের সেরা। তাকে আমাদের নজরবন্দি করতে হবে, তবে আর্জেন্টিনা মানেই কেবল একজন খেলোয়াড় নয়।’

এদিকে প্রতিপক্ষের কিছু কৌশলের ব্যাপারে বেশ সজাগ স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্তে। তিনি সরাসরি সতর্ক করেছেন আর্জেন্টিনার মাঠের আচরণের বিষয়ে। লাপোর্তে বলেন, ‘ফুটবলের স্বাভাবিক আগ্রাসন নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। যদি সেটি নিয়মের মধ্যে থাকে এবং রেফারি নিজের কাজ ঠিকঠাক করেন, তবে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে আমরা এমন কিছু বিষয় দেখেছি যা আমাদের সত্যিই অবাক করেছে, এমন কিছু আচরণ যা সহজে পার পেয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, স্পেনের ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী নায়ক আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা দুবাই থেকে তার উত্তরসূরিদের পরামর্শ দিয়েছেন, ‘নিজেদের পরিচয় ও স্টাইলের প্রতি অবিচল থাকো। আমার চাই আরেকজন স্প্যানিশ খেলোয়াড় গোল করুক এবং সেই অবর্ণনীয় নীরবতার অনুভূতি অনুভব করুক, যা আমি করেছিলাম ২০১০ সালে।’

রবিবার রাত শেষে ফুটবলবিশ্ব এমন এক চ্যাম্পিয়নকে বরণ করে নেবে, যার অদম্য জেদ আর পরিশ্রমের গল্প পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত