অ্যাডহক কমিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড়!

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ এএম

অবশেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত খবরই সত্যি হলো। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি এম এ কুদ্দুস খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু। বক্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক পদে সেই কুদ্দুস এবং উশুর ওই পদে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন তারা। এখানেই প্রমাণিত হয় কমিটি করার ক্ষেত্রে অনৈতিক অর্থ লেনদেনে সহযোগিতা করেছেন ওই দুই কর্মকর্তা। শনিবার প্রাথমিকভাবে ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কোনো কমিটি ২৯ সদস্যের আবার কোনো কমিটি ২৫ সদস্যের। আর এসব কমিটি নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ক্রীড়াঙ্গনে।

২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচিত কমিটি সব ভেঙে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তখন অবশ্য প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন আয়োজনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তৎকালীন সচিব এবং পরবর্তী সময়ে প্রধান নির্বাহী (ইডি) আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, বিশেষ সময়ে (অন্তর্বর্তী সরকার) গঠিত কমিটির কোনো সময়সীমা থাকবে না। সরকার যতদিন মনে করবে তারা ততদিন থাকবে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক ক্রীড়াক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্য চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়নে সুপারিশ প্রদানে কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিই মূলত ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের সুপারিশ করে। তাই নতুন কমিটি নিয়ে সমালোচনার দায় তাদের কাঁধেও বর্তায়।

২৮টি কমিটির মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সাতজন সাধারণ সম্পাদক পদেই বহাল রয়েছেন। বক্সিংয়ে এম এ কুদ্দুস খান, উশুতে দিলদার হাসান, জিমন্যাস্টিকসে হাবিবুর রহমান জামিল, কুস্তিতে মেসবাহ উদ্দিন আজাদ, হ্যান্ডবলে সালাউদ্দিন আহমেদ, রাগবিতে আখতার জামান এবং টেনিসে ইশতিয়াক আহমেদ কারেন। তবে যেসব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন এসেছে সেগুলো হলো অ্যাথলেটিকসে অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, কাবাডিতে ইসরাইল হাওলাদার, ক্যারমে আজহারুল ইসলাম কনক, খো খোতে রায়হান উদ্দিন ফকির, জুডোতে নয়না চৌধুরী, টেবিল টেনিসে সাইদুল হক সাদী, তায়কোয়ান্দোতে মাহমুদুল ইসলাম রানা, দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ, ফেন্সিংয়ে কাজী সাইফুল হক, ব্যাডমিন্টনে কাজী হাসিবুর রহমান, ভলিবলে আবদুল মুমিন সাদ্দাম, ভারোত্তোলনে এস এম কাজল, মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় শারমিন আক্তার রতœা, রোইংয়ে সাইফুদ্দিন আলী, শুটিংয়ে সাকিফ শামীম, সাইক্লিংয়ে পারভেজ হাসান, আরচারিতে সৈয়দ তানভীর, সুইমিংয়ে সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, কারাতে- সৈয়দ নুরুজ্জামান সিনথিয়া এবং হকিতে ইশতিয়াক সাদেক।

ঘোষিত নতুন এসব কমিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ক্রীড়াঙ্গনে। যেমন সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্নাকে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি শুটিংয়ে যুগ্ম সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও রাখা হয়েছে। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে রাখা হয়নি সাবেক তারকা অ্যাথলেট ও কোচ মো. ইয়াহিয়াকে। কারাতে ফেডারেশনের সদস্য করা হয়েছে বাশাআপ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তারকা মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় খালেদ মনসুর চৌধুরীকে। এছাড়া ভলিবলের মতো বড় একটি ফেডারেশনে টেনে আনা হয়েছে কমিঠি গঠনে অনৈতিক অর্থ লেনদেনে সাবেক এক তারকা ফুটবলারকে সহযোগিতা করার দায়ে অভিযুক্ত আবদুল মুমিন সাদ্দামকে। যদিও দেওয়ান সজল বলেছিলেন, বর্ষীয়ান সংগঠকদেরই রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আশিকুর রহমান মিকু কিংবা বিমল ঘোষ বুলুকে রাখা হয়নি। আর সাঁতারের সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল নিজেই।

এসব সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্য চিহ্নিতকরণ, সমস্যা নিরসন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সুপারিশ প্রদানে কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও শুটিং আলাদা। দুই জাগাতেই থাকতে পারেন রতœা। এতে কোনো সমস্যা নেই।’ সাধারণ সম্পাদক পদে আটজনের থেকে যাওয়ার বিষয়ে তার কথা, ‘সবাইকে তো আর পরিবর্তন করা যাবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত