আবেগ জেদ ও ট্রফি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ এএম

ফুটবল কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং এটি শিল্প ও প্রতিজ্ঞার এক অনন্য মেলবন্ধন। আর যখন এই মেলবন্ধন গিয়ে ঠেকে বিশ^কাপের চূড়ান্ত মঞ্চে, তখন প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ। স্পেনের সুশৃঙ্খল ফুটবলীয় শৈলী আর আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতার এই ফাইনালটিও ঠিক তেমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দুই ভিন্ন ধারার এই মহাযুদ্ধের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরের অন্দরমহল থেকে ভেসে আসা সুর যেন মাঠের বাইরের উত্তপ্ত যুদ্ধেরই এক প্রতিচ্ছবি। ট্রফি জয়ের তীব্র নেশা আর কোটি মানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে ফাইনালের প্রাক্কালে নিজেদের লক্ষ্য ও অনুভূতির কথা জানালেন আর্জেন্টাইন প্রতিনিধিরা।

প্রস্তুতির হিসাব-নিকাশ নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বেশ আত্মবিশ^াসী। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পেনকে বিশ্লেষণ করেছিলাম কারণ আমরা মার্চ মাসে তাদের বিপক্ষে খেলতে পারতাম। আমরা ডিসেম্বর থেকেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের বিশ্লেষণ করছি। অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করাও আবার ভালো নয়। আমরা জানি তারা কীভাবে খেলে; আমরা সবাই তাদের শক্তি সম্পর্কে জানি।’

তবে ফাইনালের প্রস্তুতির পথে ফিফার সূচি নিয়ে তিনি কিছুটা ক্ষুব্ধ। আটলান্টা থেকে আসার পর বিকেলের তীব্র দাবদাহে বাধ্যতামূলক অনুশীলনের নির্দেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘গত রাতে (বৃহস্পতিবার) ১১টায় পৌঁছে এমন এক সময়ে আমাদের জোর করে অনুশীলন করানো হয়েছে, যা আমরা চাইনি। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি আমাদের প্রস্তুতির বড় ক্ষতি করেছে।’

কোচের এই বিরক্তির মাঝেও যখন দলের ঐক্যের কথা আসে, তখন তার কণ্ঠে ঝরে পড়ে আবেগ। তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা বিশুদ্ধ ইতিহাস তৈরি করেছে। ৩৯ বছর বয়সে মেসি যেভাবে দলকে ফাইনালে তুলেছে, তা অবিশ্বাস্য। বোকা বা রিভার প্লেটের সমর্থকরা যেভাবে টেলিভিশনের সামনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে, তাদের জন্যই আমরা খেলি।’

দলের এমন আবেগি অবস্থানের কথা যখন উঠে আসে, তখন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কণ্ঠে থাকে শান্ত দৃঢ়তা। বয়সের ভার ছাপিয়ে তার কাছে ফুটবল আজও এক সহজ আনন্দের নাম। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই চাপ নিয়ে ভাবি না; এটাকে আমরা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই দেখি। স্পেন খুবই শক্তিশালী, তবে এটি একটি টিম গেম।’ লামিন ইয়ামালের সঙ্গে নিজের ভাইরাল হওয়া সেই পুরনো ছবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন, ‘ইয়ামাল অসাধারণ। ক্যারিয়ারের শুরুতেই আমাদের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ কাকতালীয়, তবে আমরা তাকে থামানোর সেরা চেষ্টা করব।’

এই লড়াকু মানসিকতার চূড়ান্ত রূপ যেন গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের শরীরেও। ভাঙা হাড়ের ব্যথা নিয়েও তার জেদ বিন্দুমাত্র কমেনি। মার্তিনেজ বলেন, ‘আমার আঙুলের হাড় ভাঙা, প্রতিদিন প্রচুর ব্যথা হয়। বিশেষজ্ঞরা অস্ত্রোপচারের কথা বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা এড়িয়েছি। কোচ আমাকে মেসেজ দিয়েছিলেন, ‘তুমি যেমনই থাকো, তোমাকে আমার দলে চাই।’ এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। রবিবার আমরা আমাদের প্রাণ দিয়ে ট্রফিটি দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

আর্জেন্টিনা শিবিরের এই আবেগ আর জেদই বলে দিচ্ছে, আজকের (রবিবারের) লড়াই কেবল মাঠের ঘাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জয়ের ভাগ্য গড়ে দেবে দলীয় একতার সর্বোচ্চ নজিরে ভর করেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত