গত ২ জুলাই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ১০ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এটি যেতে না যেতেই আবার ১৫ জুলাই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় তিন দিনের মাথায় হতাশ হয়েই ঘাটে ফিরতে হয় জেলেদের। এভাবে একের পর এক লঘুচাপে বিপাকে পড়েছেন উপকূলের হাজারো জেলে।
এদিকে সাগরে গেলেই কেবল জেলেদের চুলায় আগুন জ¦লে। কিন্তু উত্তাল সাগর আর বৈরী আবহাওয়া সেই পথ আটকে দিয়েছে। তাই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন মৎস্যঘাটে নোঙর করা আছে শত শত ট্রলার। এখন কেবল অপেক্ষা কবে শান্ত হবে সমুদ্র, কবে আবার জীবিকার সন্ধানে গভীর সাগরে ছুটবেন তারা।
কোড়ালিয়া ঘাটে অনেক জেলে ট্রলার নোঙর করা। সেখানকার জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কোনো আয় ছিল না। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর কয়েকদিন মাছ ধরেছি। এরপর আবার টানা বৈরী আবহাওয়ায় বসে আছি। সাগরে এখনো অনেক ঢেউ। এমন অবস্থায় গেলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
আনোয়ারের পাশের ট্রলারে বসে ছিলেন রাসেল মাঝি। তিনি বলেন, ট্রলার প্রস্তুত থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে যেতে পারছেন না। কিন্তু ঘাটে বসে থাকলেও তো আয় নেই। আমাদের সংসার চলে সাগরের ওপর।’ ট্রলার মালিক মাসুম মল্লিক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় দুই মাস ট্রলার বন্ধ ছিল। এরপর অল্প কয়েকদিন মাছ ধরা হয়েছে। আবার বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলার ঘাটে আটকে আছে। ট্রলার চালাতে না পারলে মালিক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি মাঝি-মাল্লাদেরও আয় বন্ধ হয়ে যায়।’ দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলেকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে কমে গেছে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ।’ এদিকে গত রোববার পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ঘটনায় গলাচিপা উপজেলার পাঁচ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সার্বিকভাবে জেলেরা দুর্দশার মধ্য আছে। আসলে জেলেদের বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার।’ এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘সাগর পুরোপুরি অনুকূলে এলেই গভীর সাগরে যাওয়ার জন্য জেলেদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।’