হাবিবুর রহমান ফ্রান্সের সমর্থক কিন্তু নিজে মেসিভক্ত। এ পর্যন্ত খেলা নিয়ে তার সব প্রেডিকশনই খেটে গেছে। তবু নিজেকে বলেন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল অ্যানালিস্ট’। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে তার জার্নি আর নিজের ফুটবল দর্শন জানিয়েছেন উদয়কাঠীকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনাম-উজ-জামান
উদয়কাঠী : নিজেকে অ্যাক্সিডেন্টাল ফুটবল অ্যানালিস্ট বলার কারণ কী?
হাবিবুর রহমান : ২০২২ বিশ্বকাপের সময়ও আমি ফুটবল নিয়ে লেখালেখি করতাম। একটা চ্যানেলও ছিল ‘স্পোর্টস নাউ’। ওই বিশ্বকাপের সময়ও চ্যানেলটা খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সে সময়ে প্রায় আড়াই লাখ ফলোয়ার পেয়েছিল।
আমি ফুটবল বিষয়ক লেখালেখি মূলত করতাম ফোরসা বার্সা গ্রুপে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সময় আমি উপলব্ধি করলাম, লিখতে আমার যে সময়টুকু ব্যয় হবে সেটি হয়তো আমি দিতে পারব না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করব। মূলত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সবাইকে নিয়ে উদযাপনের জন্যই ফুটবল অ্যানালিস্ট হিসেবে আমার আসা। নিজেকে আমি তাই অ্যাক্সিডেন্টাল ফুটবল অ্যানালিস্ট বলি।
উদয়কাঠী : তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আপনার ম্যাচ প্রিভিউ ও প্রেডিকশন দারুণ জনপ্রিয়। এখন পর্যন্ত আপনার সব প্রেডিকশন মিলে যাওয়ার ম্যাজিকটা কী?
হাবিবুর রহমান : ম্যাজিকটা হলো মেমোরি। একটা প্লেয়ারকে চিনি, তার বৈশিষ্ট্য জানি। একটি দলের খেলা দুই-একবার দেখেছি। সেখান থেকে বোঝার চেষ্টা করি, কোন পরিস্থিতিতে কোন খেলোয়াড় কেমন করতে পারে। আর মূল ব্যাপারটা হলো স্পেস রিডিং। যখন আমি খেলা দেখি তখন আমি দেখি বলটা কোথায় আছে, পাস কোথায় আছে আর স্পেসটা কোথায় আছে। এই জিনিসগুলো ক্যালকুলেশন করতে করতে আমি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে থাকি ওই দলটা ওখানে ভালো করবে, আর আরেকটা দল ওই পরিস্থিতিতে স্ট্রাগল করবে। যেমন ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের ব্যাপারে আমি বলেছিলাম যে, স্পেন ফ্রান্সকে সাফোকেটিং ফুটবল খেলাবে। অর্থাৎ বলই দেবে না। ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড লাইন অ্যাটাকে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। তারা কিন্তু বল নিয়ে ওভাবে যেতেও পারেনি। এই জিনিসটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ খেলা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে। বার্সেলোনা যখন কন্ট্রোল করা শুরু করে তখন রিয়াল মাদ্রিদ খুব একটা বল পায় না। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয় ম্যাচের আগে বড় স্টেটমেন্ট দিতে গেলে। এগুলো আসলে ওই স্টাডি বা রিসার্চের ফসল।
উদয়কাঠী : ফ্রান্সের সমর্থক হলেন কীভাবে? কার খেলা দেখে? যদি আপনি মেসির খেলা প্রথমে দেখতেন তাহলে কি আর্জেন্টিনার ফ্যান হতেন?
হাবিবুর রহমান : ২০০২ সালে আমার বয়স খুবই কম ছিল। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের খেলা ভালোই লেগেছে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে, সেই ব্রাজিল টিমটাকেই একা জিদান যেভাবে প্রতিহত করল তা দেখে আমি জিদানের ফ্যান হয়ে গেলাম। তার একার কাছেই রোনালদো, রোনালদিনহো সবাই নাস্তানাবুদ হয়ে যাচ্ছে! সেখান থেকেই জিদানকে ভালো লাগা, ফ্রান্স সমর্থন করা। পরে যখন জিদানের মতো খেলাকে কয়েক সেকেন্ড আগে দেখে ফেলা আরেকজন খেলোয়াড় এলো তখন ভালো লাগা শিফট করল মেসিতে। আমি যদি প্রথমে মেসির খেলা দেখতাম, তাহলে হয়ত আর্জেন্টিনা সমর্থন করতাম।
উদয়কাঠী : স্পোর্টস অ্যানালিসিস বা স্পোর্টস জার্নালিজমকে কি এখনকার তরুণরা ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা কতটুকু?
হাবিবুর রহমান : যেকোনো বিষয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে আমার মনে হয় ভেবে দেখা উচিত, ওই বিষয়টি তার কতটুকু ভালো লাগে। বিষয়টি যদি তার প্যাশন হয় তাহলে যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন সে ভালো করবে। বাংলাদেশে স্পোর্টস জার্নালিজম পেশা হিসেবে খারাপ নয়। অনেক ব্র্যান্ড আছে, স্পন্সর পাওয়া যায়। মানুষের আগ্রহ আছে। এই ফিল্ডে সম্ভাবনা আছে।
উদয়কাঠী : ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে চাঙ্গা রাখার বা ‘মি-টাইম’ কাটানোর উপায় কী?
হাবিবুর রহমান : আমার ফ্রি-টাইম বা মি-টাইম কাটে রিসার্চ করে। যেকোনো বিষয়ের গভীরে গিয়ে জানতে বুঝতে আমার খুবই ভালো লাগে। উদয়কাঠী : আপনার প্রেডিকশন যদি কখনো ভুল হয়, ট্রল সামলানোর জন্য কী ব্যাকআপ প্ল্যান আছে?
হাবিবুর রহমান : প্রেডিকশন ভুল হলে প্ল্যান একটাই, কমেন্ট পড়া বাদ দিতে হবে। কে কী বলল কানেই নেওয়া যাবে না। কেউ যদি আক্রমণ করে কথা বলে তার জন্য আমার একটাই কথা, ভাই, আপনার জন্য শুভকামনা!
উদয়কাঠী : তরুণদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
হাবিবুর রহমান : খেলাকে বিনোদন হিসেবে দেখতে হবে। অনেকে অবসেসড হয়ে যায়। বিশেষ করে ক্লাব ফুটবল নিয়ে। এটা ওয়েস্ট অব টাইম, মানি অ্যান্ড এনার্জি। আগে জীবনে ভালোভাবে বাঁচার জন্য একটা কিছু করতে হবে। ব্যক্তিগত জীবন খেলার আগে স্থান দিতে হবে।