টোটাল ফুটবলের সবচেয়ে বিখ্যাত খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয় ইয়োহান ক্রুইফকে। টোটাল ফুটবল এমন ফুটবল কৌশল যেখানে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য একটি মাত্র পজিশনই নির্ধারিত থাকে না। সুযোগ পেলেই যেকোনো খেলোয়াড় যেকোনো পজিশনে খেলতে শুরু করেন এবং অন্য যেকোনো খেলোয়াড় সেই খেলোয়াড়ের স্থান পূরণ করেন। এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি চৌকস দলের যে দলের সবাই সব পজিশনে সমানভাবে খেলতে পারেন। এমন এগারোজন খেলোয়াড় যাদের লক্ষ্য, প্রেরণা এক এবং যারা দলের প্রয়োজনকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে।
১৯৬৫ সালে রাইনাস মিশেল আয়াক্সের কোচ হওয়ার পর থেকে ফুটবলে ‘টোটাল ফুটবল’ নামের এই নতুন ধারার আবির্ভাব ঘটে। ক্রুইফের সঙ্গে খুব ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নেন। আয়াক্স ও নেদারল্যান্ডস দুই দলই ক্রুইফকে কেন্দ্র করে মাঠে পাস দিত। ক্রুইফকে কোচ মিশেল মাঠের যেখানে খুশি পদচারণার স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলেন। অসাধারণ কৌশলগত সামর্থ্য ও অসামান্য বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির দরুন ক্রুইফ প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুব সহজেই বুঝে ফেলতেন। ক্রুইফের সতীর্থরাও তার খেলার সঙ্গে নিজেদের সহজে মানিয়ে নিত। নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য ক্রুইফ সব কৃতিত্ব দিতেন তার দলের সদস্যদের।
ক্রুইফ বলতেন, আমার দলে গোলকিপার হলো প্রথম অ্যাটাকার এবং স্ট্রাইকার হলো প্রথম ডিফেন্ডার। শট করো, শট না করলে গোল পাবে না। শট ব্যর্থ হওয়া বা ভুল করাকে তিনি নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতেন না। বলতেন, ভুল করো কিন্তু একই ভুল দুবার করো না। তার কাছে খেলা ছিল শিল্পচর্চা, জয়-পরাজয় নয়। তিনি বলতেন, দর্শকরা যদি ম্যাচ উপভোগ করে এবং হাসিমুখে বাড়ি ফেরে তাহলে এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। ক্রুইফের জীবনদর্শন ও ফুটবল দর্শন হলো, সবাইকে নিয়ে সবার সঙ্গে সততার সঙ্গে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।