কারাগারে নেওয়ার পথে আসামির পালানোর অভিযোগ পুলিশের অস্বীকার

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

রাজধানীর পল্লবী থানার হাজতখানা থেকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার সময় হাতকড়া খুলে এক আসামির পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও বিষয়টি অস্বীকার করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো আসামি পালায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, পলাতক আসামির নাম শহিদুল ইসলাম (২০)। তিনি ডিএমপি অধ্যাদেশে দুই মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। শহিদুল রাজধানীর ভাসানটেক থানার আবুলের পোড়া বস্তির বাসিন্দা। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার আইলাসমিতি এলাকার মতিন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ডিসি কার্যালয়ে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বসে। ওই আদালতে মিরপুর বিভাগের সাতটি থানার ডিএমপি অধ্যাদেশে দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ভাসানটেক থানার ডিএমপি অধ্যাদেশের ৭৭/১০০ ধারার মামলায় শহিদুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সূত্র থেকে আরও জানা যায়, মিরপুর বিভাগের কাফরুল, ভাসানটেক, রূপনগর ও শাহআলী থানার ডিএমপি অধ্যাদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিত পল্লবী থানার হাজতখানায় রাখা হয়। এদিন মিরপুর মডেল থানার আসামি স্কট পার্টির মাধ্যমে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় জেলখানার উদ্দেশ্যে পল্লবী থানার হাজতখানা থেকে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানের কাছে আনা হয় শহিদুলকে। ভ্যানের কাছে আসা মাত্রই শহিদুল হাতকড়া থেকে কৌশলে হাত বের করে পল্লবী থানার বাউন্ডারি টপকিয়ে পালিয়ে যায়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে পল্লবী থানা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামির পলায়নের খবর দ্রুত মিরপুরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটি নিয়ে থানা কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতারই প্রমাণ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শহিদুলকে পল্লবী ও ভাসানটেক থানা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত