বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামি মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, আসাদ বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও তিনি বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ডিবি পুলিশ জানায়, গত শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহত আবদুল মান্নানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বের না হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানিয়েছেন গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ একটি বিলে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তারা অটোরিকশাটি নিয়ে নওগাঁ যান। সেখানে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি ফেলে তারা পালিয়ে যান। আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি ইকবাল বাহার। আসাদের বাবা মতি মুন্সি বলেন, ডিবি হেফাজতে আত্মহত্যার খবর তিনি পরে জানতে পারেন।