আরও এক নারীনির্ভর সিনেমা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩২ এএম

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে দেশীয় চলচ্চিত্রের একঝাঁক খ্যাতিমান ব্যক্তির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নায়কবিহীন এই সিনেমাটি। চিত্রতারকা রোজিনা, ওমর সানী, আমিন খান, অনন্ত জলিল, মিশা সওদাগর, বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা কাজী হায়াতসহ অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন মহরতে। তবে মূল আকর্ষণ ছিল কলকাতার টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার এবং লাক্সতারকা আজমেরী হক বাঁধন

বলতে দ্বিধা নেই, বিশ্বের সব দেশের চলচ্চিত্রই পুরুষকেন্দ্রিক। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলিউড এবং বলিউডেও পুরুষের আধিপত্য এখনো বিরাজমান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে চলচ্চিত্রের গল্পের ধারা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে নারীকেন্দ্রিক কিংবা নারীনির্ভর সিনেমার সংখ্যা। যদিও কয়েক দশক আগেও দুই দেশে নারী চরিত্রকে উপজীব্য করে সিনেমা নির্মাণ হলেও বেশিরভাগ সিনেমাই সুধীমহলে প্রশংসা কুড়ালেও দর্শকমহলে অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকেও লোকসানের কবলে পড়তে হয়েছে অনেক লগ্নিকারককে। যার দরুন মূলধারার সিনেমা ব্যবসায়ীরা নারীকেন্দ্রিক সিনেমার কথা শুনলেই মুখটা কালো করে ফেলেন। তাদের অভিযোগ, এসব সিনেমা কেবল বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং পুরস্কার অর্জন করে। মূলধন ফেরত পাওয়া যায় না। মূলধারার ক্ষেত্রে এসব নারীপ্রধান সিনেমা অচল।

কিন্তু নির্মাতাদের এই প্রচলিত বক্তব্যকে ভিত্তিহীন করে দিয়েছে বলিউড, টলিউড এমনকি আমাদের ঢালিউডও। তালিকা করতে গেলে লিখতে হবে অনেকগুলো চলচ্চিত্রের নাম। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নারীকেন্দ্রিক সিনেমার সংখ্যা ও জনপ্রিয়তা লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছে। চিরাচরিত কান্নাকাটি বা শুধু সংগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে এখন নারীর বহুমুখী রূপ, সাহস এবং আধুনিক ও জটিল চরিত্রগুলো বড় পর্দায় সফলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। যেগুলো সমালোচকদের পাশাপাশি দর্শকমনেও আলোড়ন তুলছে। বিশেষ করে গত এক বছরে মুক্তি পাওয়া উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে অর্ধেকের বেশি সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন নারী। এসব সিনেমায় কখনো উঠে এসেছে নারীদের উদযাপনের গল্প, কখনো নারীর লড়াই, কখনো-বা নারী নির্মাতা নিজেই বলেছেন নারীর গল্প।

সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ফুল কমার্শিয়াল মুভিতে আরেক সংযোজন নিয়ে আসছে ‘গুলশানের চামেলী’। সিনেমাটি অনেক আগে নির্মাণের ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যায় এর নির্মাণ প্রক্রিয়া। শেষমেশ নতুন চমক নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে সিনেমাটি। এরই মধ্যে সিনেমাটির জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘গুলশানের চামেলী’র মহরত। পূর্ব ঘোষণা অনুয়ায়ী গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে দেশীয় চলচ্চিত্রের একঝাঁক খ্যাতিমান ব্যক্তির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নায়কবিহীন এই সিনেমাটি। চিত্রতারকা রোজিনা, ওমর সানী, আমিন খান, অনন্ত জলিল, মিশা সওদাগর, বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা কাজী হায়াতসহ অনেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন মহরতে। তবে মূল আকর্ষণ ছিল কলকাতার টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার এবং লাক্সতারকা আজমেরী হক বাঁধন।

রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি পরিচালনা করছেন মো. ইকবাল। তিনি জানান, ‘গুলশানের চামেলী’ একটি ব্যতিক্রমধর্মী গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র। গল্প, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলীতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শিগগিরই সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। গল্পের কেন্দ্রে থাকবেন একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার শিকার হন।

আর এই যৌনকর্মীর চরিত্রেই অভিনয় করছেন পাখিখ্যাত মধুমিতা সরকার। এর মাধ্যমে প্রথমবার ঢাকাই সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। মহরতে মধুমিতা বলেন, ‘বাংলাদেশে এসে কোনো সিনেমায় কাজ করব এ নিয়ে এর আগে অনেকবার কথা হয়েছিল। নানা কারণে আসা হয়নি। এই প্রথমবার বাংলাদেশ আসা। এসে অনেক আন্তরিকতা পেলাম। মনেই হচ্ছে না যে প্রথমবার এলাম। ইকবাল ভাইকে ধন্যবাদ আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য। এই ছবিটার গল্পটাও অন্যরকম, খুবই ইউনিক।

এই অভিনেত্রী বলেন, আমি এর আগে এ ধরনের চরিত্রে কখনো অভিনয় করিনি। চরিত্রটি আমার জন্য একেবারেই নতুন এবং চ্যালেঞ্জিং। আমি এই ছবিটা করার জন্য প্রচণ্ড এক্সাইটেড যে এত সুন্দর একটা টিমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছি। সবার এত উৎসাহ দেখেও আমার খুব খুব ভালো লাগছে। আশা করছি, দর্শক আমাকে নতুন রূপে দেখতে পাবেন। গল্প ও চরিত্র দুটিই ভীষণ পছন্দ হয়েছে। চরিত্রটিতে একাধিক স্তর থাকায় অভিনয়ের সুযোগও অনেক বলে মনে করেন তিনি। পুরো টিম অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে এবং আমি আশাবাদী, সিনেমাটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

এই সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনও। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এই সিনেমায় কেন। আমি আসলে নতুন একটা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে চাই। আমি চাই না যে আমাকে বলা হোক, আমি শুধু রেহানা মরিয়ম নূরই করতে পারি। আমি চাই, এমন একজন শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে মনে রাখবে, যে সব ধরনের সিনেমা করতে পারে বা করতে জানে। এই সিনেমায় যারা আছেন, তাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা বিশাল ব্যাপার। সিনেমাটিতে মিশা ভাই, রোজিনা আপা, আমিন ভাই আছেন, মধুমিতাসহ আমাদের নতুন আরেকজন অভিনেত্রী আছেন, সবাই মিলে আমরা একটা ভালো কাজ করার উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত