চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অভিযানের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। একপর্যায়ে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩টি গুলি, গুলির খোসা ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মোহাম্মদ রায়হান ওরফে রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাছির। গত বুধবার ভোররাতে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ৯ এমএম পিস্তলটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি জানান, অভিযানে ১৮ রাউন্ড ৯ এমএম গুলি, পাঁচ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ এমএম গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা ও চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং সেগুলো কীভাবে অপরাধীদের হাতে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মাসুদ আলম আরও জানান, গত বুধবার ফটিকছড়ি থানার একটি দল শাহনগর পল্লানপাড়ায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রায়হান শিবির বাবুলের ফুফাতো ভাই।
জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার কালা মোবারক গত ১৩ জুন রাউজান পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তকৃত আসামি। মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। তিনি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত।