অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

শেখ হাসিনা-রেহানার নামে দুদকের মামলা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ এএম

দেশের ৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে মামলার বিষয়টি তুলে ধরেন।

দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, পারস্পরিক যোগসাজশ ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করা হয়। সিএসআর নীতিমালায় এ ধরনের ট্রাস্টকে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২-এর আওতায় গঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন শেখ হাসিনা এবং সহ-সভাপতি শেখ রেহানা। দুদকের অনুসন্ধানে দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এতে সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহের তথ্য পাওয়া যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর কোন ব্যাংককে কত টাকা দিতে হবে, তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকের কর্মকর্তারা সরেজমিনে ট্রাস্টের ঠিকানা পরিদর্শন করে সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাননি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয়।

দুদকের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর-বিষয়ক নীতিমালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠানে এভাবে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুনের ডিওএস সার্কুলার এবং ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এর বিধান অনুসরণ করা হয়নি।

ট্রাস্টের ঘোষিত বা প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষে অনুসন্ধানে কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিএবির সভাপতি থাকার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। সিএসআর তহবিল থেকে এভাবে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। আসামিদের পারস্পরিক যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ঘটনায় রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা, অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ভূমিকা এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় দুদক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত