আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্যাবোটাজের (নাশকতা) আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আর নাশকতা হতে পারে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যখনই প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, অথবা একের পর এক রায় অপেক্ষমাণ আছে ঠিক, সেই মুহূর্তে এখানে (ট্রাইব্যুনালে) স্যাবোটাজ (নাশকতা) করার জন্য একটা প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা কাজ করেন তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
শাপলা চত্বর মামলা অগ্রাধিকারে নিষ্পত্তি : ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকা-ের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে বলে ব্রিফিংয়ে জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা বিচারকার্যে সব মামলাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তবে শাপলা চত্বর গণহত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করব।’ অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শাপলা চত্বরে ৬১ জন আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার)। এ বিচার নিয়ে নানাভাবে মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু সারা দুনিয়ার মানুষ বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রত্যেকের আকাক্সক্ষা ছিল শাপলা চত্বরের এ হত্যা মামলাটির যেন বিচার হয়। শাপলা চত্বর মামলা নিয়ে মানুষের গণদাবি আছে। আমরা জনগণের এমন দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই বিচারটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করব।’
পলাতকদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ : এদিকে মতিঝিলে শাপলা চত্বর হত্যাকা-ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুটি পত্রিকায় (একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। এ মামলায় ১১ আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গত মধ্য জুলাইতে শাপলা চত্বর মামলার তদন্তের খসড়া প্রতিবেদন হাতে পায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ১১ জন গ্রেপ্তার আছেন। গত বছরের ১২ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরসহ অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল।