আজ শুভ জন্মাষ্টমী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ এএম

শুভ জন্মাষ্টমী আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি আজ। জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু পুরাণ ও ইতিহাস মতে, প্রায় ৫ হাজার বছর আগে দাপর যুগে ভাদ্র মাসে মথুরা নগরীতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের ক্রোড়ে এই মহাপুণ্য তিথিতে জন্ম লাভ করেছিলেন এই মহাবতার। যে পুণ্যলগ্নে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই পুণ্য তিথি জন্মাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের পাপাচার যখন চরমে পৌঁছায়, ঠিক সেই সময় তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে অত্যাচারী কংসকে নিধন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন দুষ্টের দমন, সৃষ্টের পালন করতে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠায় আবির্ভাব ঘটেছিল শ্রীকৃষ্ণের। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে জন্মাষ্টমী উদযাপন করবেন।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ উৎসব সমাজে বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে। একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেনশুভ জন্মাষ্টমীর এই ক্ষণে এ প্রত্যাশা করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সুশীল রাষ্ট্র ও সমাজে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের মেলবন্ধন থাকে। বাংলাদেশেও যুগ যুগ ধরে সর্বস্তরের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন। এই আবহমান সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।’

জন্মাষ্টমীতে আজ জাতীয় ঢাকেশ^রী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) স্বামীবাগ আশ্রম, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে নানা আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভজন কীর্তন, ভোগ আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নাটক ইত্যাদি।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আজ সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ ও বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা। মন্দিরের মেলাঙ্গনে আয়োজিত গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবেন চট্টগ্রামের সীতাকু-ের শংকর মঠ ও মিশন। বিকেল ৩টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। আজ জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হবে।

ডিএমপির ১০ নির্দেশনা : জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক রুটে চলাচলকারী সব যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে শোভাযাত্রা ঘিরে ৯টি নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শোভাযাত্রা চলাকালে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরবাসীকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথ হলো শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপশাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক।

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। উচ্চৈঃস্বরে মাইক বা শব্দযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোঁটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্রেড, দিয়াশলাই ও গ্যাসলাইটারসহ কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না। শোভাযাত্রা চলাকালে রাস্তায় কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না। অহেতুক রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতেও বলা হয়েছে। ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন জানান, শোভাযাত্রা চলাকালে নগরবাসীকে ডিএমপির নির্দেশিত বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত