মেসির পাসে ওতামেন্দির অমর গোল: বিদায় ‘জেনারেল’

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ এএম

লিওনেল মেসির বিদায়ী রাতের আলোয় অন্যরকম এক উজ্জ্বলতায় নিজে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় রাঙিয়ে নিলেন নিকোলাস ওতামেন্দিও। ‘দ্য জেনারেল’ খ্যাত এই ডিফেন্ডার কেবল একটি জয় দিয়েই বিদায় নেননি, বরং মাঠে মেসির সঙ্গে আরও একবারের জন্য জাদুকরী বোঝাপড়া ফুটিয়ে তুলে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেছেন। আর সেই সঙ্গে ১৪০ ম্যাচের বর্ণিল এক গৌরবময় পথচলার ইতি টানলেন এই আলবিসেলেস্তে তারকা।

মনুমেন্তালে ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ডেডলক ভাঙার সেই মুহূর্তটা আসে দ্বিতীয়ার্ধে। বাঁ প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সে ছুটে এসে দুর্দান্ত এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠান ওতামেন্দি। গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মেসির সঙ্গে এক আবেগময় ও উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন দুই পুরোনো যোদ্ধা, যা মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় গ্যালারির হাজারো দর্শকের হৃদয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে ওতামেন্দি জানান, এই ম্যাচটি তার কাছে একটা ‘বোনাস’র মতো ছিল, কারণ তিনি আগেই জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। 

কিন্তু ১০ নম্বর জার্সির মালিকের ব্যক্তিগত ফোনকল এবং তার ঐতিহাসিক বিদায়ী ক্ষণে সঙ্গী হওয়ার বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি মাঠে ফিরে আসেন। ম্যাচ শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অবিশ্বাস্য সমাপ্তি। এই ম্যাচটি একটা বোনাস ছিল; আমি আগেই বিদায় বলেছিলাম। কিন্তু ১০ নম্বরের (মেসি) কাছ থেকে এখানে থাকার ডাক এসেছিল, যাতে আমি তার এই ঐতিহাসিক দিনটি উপভোগ করতে পারি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছর কেটেছে, তার সঙ্গে এটি উপভোগ করাটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমার শেষ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোলটি করা এমন একটি স্মৃতি, যা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’ 

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের খানিক আগে স্কালোনির প্রথম দফার পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মাঠ ছাড়েন এই ডিফেন্ডার। মনুমেন্তালের উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের গগনভেদী করতালির আওয়াজ আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জার্সির লোগোয় চুমু খেয়ে মাঠ ছাড়েন ওতামেন্দি।

২০০৯ সালে ডিয়োগো ম্যারাডোনার অধীনে অভিষেক হয়েছিল ওতামেন্দির। সেখানে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪০ ম্যাচ খেলে ১০ গোল করার পাশাপাশি চারবার বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। 

এদিকে মেসির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিদায়ের এই আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে ওতামেন্দি আরও জানান, কেবল শেষ খেলাটির কথা ভাবলেই পেটে এক অদ্ভুত কষ্টের মোচড় দিয়ে ওঠে, যা একই সঙ্গে দুঃখ ও আনন্দের মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে। সতীর্থ ও বন্ধুকে নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। কখনও কখনও মনে অনেক কথা জমে থাকে, কিন্তু তখন কথা বলার চেয়ে একটি মুহূর্ত, এক কাপ মেতো বা ট্রেনিং সেশন উপভোগ করার অনুভূতিটাই বেশি কাজ করে। ধন্যবাদ এত সহজ-সরল ও বিনয়ী হওয়ার জন্য, এবং দেশের ফুটবলকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় তুলে ধরার জন্য।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত